‘রাজনীতিতে নেমে ডিমকে ভয়? বিপ্লবীরা বুকে গুলি নিয়েছিলেন’, ভর্ৎসিত মহুয়া
নয়াদিল্লি: রাজনীতিতে পা রেখে সামান্য ডিম ছোড়ার ভয় পাচ্ছেন! যেখানে দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামীরা হাসিমুখে বুকে গুলি নিয়েছিলেন। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের আবেদন খারিজ করে ঠিক এই…
নয়াদিল্লি: রাজনীতিতে পা রেখে সামান্য ডিম ছোড়ার ভয় পাচ্ছেন! যেখানে দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামীরা হাসিমুখে বুকে গুলি নিয়েছিলেন। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের আবেদন খারিজ করে ঠিক এই ভাষাতেই ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের একটি মামলায় তাঁকে পুলিশের কাছে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। শুক্রবার তাঁর সেই আবেদন শুনতে কার্যত অস্বীকার করেছে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ।
গত এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনেকটাই বদলেছে। সাম্প্রতিক কালে মহুয়া মৈত্র, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক তৃণমূল নেতার ওপর ডিম ছোড়ার ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। এ দিন শীর্ষ আদালতে মহুয়ার আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন জানান, তাঁর মক্কেলের ভার্চুয়াল মাধ্যমে পুলিশের সামনে হাজিরা দেওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের নোটিসে তৃণমূল সাংসদকে তাঁর নিজের লোকসভা কেন্দ্রের থানাতেই হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু এর আগে সেখানে যাওয়ার অভিজ্ঞতা একেবারেই সুখকর নয়। আইনজীবীর কথায়, “আগে যখন তিনি থানায় গিয়েছিলেন, তখন তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি সত্যি সত্যিই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়াও হয়েছিল।”
মহুয়ার আইনজীবীর এই যুক্তি শোনার পরেই তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করে শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ। তৃণমূল সাংসদের উদ্দেশে বিচারপতিদের কড়া মন্তব্য, “আপনি এক জন নির্বাচিত সাংসদ। রাজনীতিতে নেমেছেন, আর এখন ডিমকে ভয় পাচ্ছেন? আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামীরা তো নিজেদের বুকে গুলি নিয়েছিলেন। এই ধরনের আবেদন কোনও ভাবেই এই আদালতের সামনে আসা উচিত নয়।” সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া মনোভাব আঁচ করতে পেরেই নিজেদের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন মহুয়ার আইনজীবী।
প্রসঙ্গত, বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের এই মামলাটিকে সম্পূর্ণ ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করে রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহুয়া। গত ২১ জুলাই হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না। তবে তদন্তে তাঁকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং তদন্তকারী অফিসারের তলবে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। হাই কোর্টের ওই সশরীরে হাজিরার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন মহুয়া। আগামী ১ অক্টোবর হাই কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২১ থেকে মোদীর বিদেশ সফরের খরচ ৫৫৭.৫১ কোটি! সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য
‘চিন্তা করবেন না, আমি পাশে আছি’! প্রাতরাশের টেবিলে ‘বেসুরো’ সাংসদদের বার্তা মোদীর