মহানায়কের সার্ধশতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু, রাজ্য সরকারের তৈরি কমিটিতে মিঠুন-প্রসেনজিৎ
মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ঘোষণা আগেই করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানিয়েছিলেন, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হবে মহানায়কের জন্মশতবর্ষ। সেই উপলক্ষে এ বার আনুষ্ঠানিকভাবে উপদেষ্টা কমিটি (Advisory Committee) গঠন করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই কমিটিই সারাবছর ধরে জন্মশতবর্ষ উদযাপনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা নেবে।
মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দায়িত্ব তাঁর কাছেই রয়েছে। জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নন্দন বা রবীন্দ্রসদনে প্রস্তুতি সভা হবে এবং তিনি নিজে সেই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। পাশাপাশি, মহানায়কের পরিবারের সম্মতি নিয়েই সমস্ত কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
রাজ্য সরকারের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপদেষ্টা কমিটির চিফ প্যাট্রন হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকাপী। কো-প্যাট্রন হিসেবে রয়েছেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। কমিটির ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট হয়েছেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
এই কমিটিতে টলিউডের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অভিনেতা জিৎ, অবির চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপ রায়, জিশু সেনগুপ্ত, দীপক অধিকারী (দেব), ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, গৌরব চট্টোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, চিত্রগ্রাহক সৌমিক হালদার, জয়ন্ত কুণ্ডু এবং প্রেমেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী।
সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এই উপদেষ্টা কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে মহানায়ক উত্তম কুমারের জীবন, কাজ স্মরণ করে সার্বিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করা। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক, চলচ্চিত্র, সাহিত্য এবং আর্কাইভ-সংক্রান্ত উদ্যোগে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া, বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন তদারকি করা এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে এই উদযাপনের সঙ্গে যুক্ত করার দায়িত্বও থাকবে কমিটির। প্রয়োজনে বিভিন্ন উপ-কমিটিও গঠন করতে পারবে তারা।
রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরই এই উপদেষ্টা কমিটির সচিবালয় হিসেবে কাজ করবে। মুখ্যমন্ত্রী সভাপতির অনুমোদন সাপেক্ষে বৈঠক ডাকা হবে। কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে দপ্তর। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে।