ব্রেস্টফিডিং কেন জরুরি? মা ও শিশুর জন্য কী কী উপকার? Ei Samay
জন্মের পর প্রথম দুধের গুরুত্ব
প্রসবের পর মায়ের শরীর থেকে যে ঘন হলুদাভ দুধ বের হয়, তাকে কলোস্ট্রাম বলা হয়। এটি অ্যান্টিবডি ও রোগ প্রতিরোধকারী উপাদানে সমৃদ্ধ। ফলে নবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এছাড়া মায়ের দুধে থাকা বিশেষ প্রতিরোধক কোষ ও বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান ডায়ারিয়া, শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, কানের সংক্রমণের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে, শিশুর অন্ত্রের স্বাস্থ্যকর জীবাণু গঠনে ভূমিকা রাখে।
শুধু শিশুই নয়, মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী
স্তন্যপানের সুফল শুধু শিশুর পায় না, তা মায়ের শরীরের জন্যও উপকারী। স্তন্যপান করানোর সময় শরীরে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা প্রসবের পর জরায়ুকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কমায়।
দীর্ঘমেয়াদে যাঁরা সন্তানকে স্তন্যপান করান, তাঁদের স্তন ক্যান্সার, ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার, টাইপ-২ ডায়াবিটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও তুলনামূলক ভাবে কম হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে।
নতুন মায়েদের দরকার সহযোগিতা, সমালোচনা নয়
স্তন্যপান একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও প্রথমবার মা হওয়া অনেক নারীর কাছেই এটি সহজ হয় না। ‘আমার দুধ কি যথেষ্ট?’, ‘আমি কি ঠিক ভাবে শিশুকে খাওয়াচ্ছি?’— এমন নানা প্রশ্ন মনে আসাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়।
এই সময়ে অনেক মা উৎসাহের বদলে অযাচিত পরামর্শ বা সমালোচনার মুখোমুখি হন, যা তাঁদের মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকের মতে, স্তন্যপানের ক্ষেত্রে মানসিক শান্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুধ উৎপাদন শুধু স্তনের উপর নয়, মস্তিষ্কের হরমোনের সঙ্গেও গভীর ভাবে সম্পর্কিত। অতিরিক্ত উদ্বেগ ও চাপ দুধ উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে পরিবারের সমর্থন, পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম এই যাত্রাকে অনেক সহজ করে তোলে।