দারিদ্রকে হারিয়ে আধাসেনায় জয়শ্রী, ইউটিউব দেখে পরীক্ষার প্রস্তুতি
এই সময়, ময়নাগুড়ি: অদম্য ইচ্ছে ও অধ্যাবসায় থাকলে যে লক্ষ্যে পৌঁছনো যায়, প্রমাণ করলেন জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির ধওলাগুড়ি গ্রামের কন্যা জয়শ্রী রায়। চার দশকে এই প্রথম ধওলাগুড়ি শুধু নয়, আশপাশের গ্রামের কোনও তরুণী ভারতীয় আধাসেনা সিআইএসএফ-এর জওয়ান পদে চাকরি পেলেন। ছ’মাস ট্রেনিং শেষে দিন দুয়েক আগে ছুটিতে নিজের বাড়িতে এসেছেন জয়শ্রী।
গ্রামের মেয়ের সাফল্যে স্কুলের শিক্ষকরা তাঁকে বৃহস্পতিবার সংবর্ধনা দেন। প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় ভৌমিক বলেন, ‘জয়শ্রী গ্রামের গর্ব, অন্য মেয়েদের কাছে অনুপ্রেরণা। ওঁর লড়াইয়ের কথা শুনে ছাত্রীরা যাতে অনুপ্রাণিত হয় সে জন্য আমরা স্কুলে ডেকে সংবর্ধনা দিয়েছি।’ আগামী সোমবার ফের পাঁচ মাসের ট্রেনিংয়ের জন্য মধ্যপ্রদেশের খগোন জেলার বারোয়াতে যাবেন জয়শ্রী।
তাঁর এই লড়াই খুব একটা সহজ ছিল না। বাবা সত্যেন্দ্রনাথ পেশায় রাজমিস্ত্রি। অভাবের মধ্যে পড়াশোনা তাঁর। ২০২০-তে ময়নাগুড়ি বেতগাড়া চারেরবাড়ি নগেন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তার পরে ধূপগুড়ি সুকান্ত মহাবিদ্যালয় থেকে ২০২৫-এ স্নাতক হন। আর্থিক কারণে কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়া সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে এসএসসি-জিডি (স্টাফ সিলেকশন কমিশন পরিচালিত জাতীয় স্তরের পরীক্ষা। এর মাধ্যমে আধাসামরিক বাহিনীতে কর্মী নিয়োগ করা হয়) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন ইউটিউব দেখে। প্রশ্ন ও উত্তর দেখে শুরু হয় অনুশীলন।
একই সঙ্গে পরীক্ষায় বসার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে এক ঘণ্টা, বিকেলে দু’ঘণ্টা দৌড় শুরু হয়। এ ভাবেই নিজেকে সেনাবাহিনীর জন্য প্রস্তুত করার পরে ২০২৫-এ এসএসসি (জিডি) পরীক্ষায় বসেন।
দু’মাস পরে উত্তীর্ণের তালিকায় তাঁর নাম ওঠে। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফিজিক্যাল টেস্টের জন্য তাঁর ডাক পড়ে। শিলিগুড়ি সংলগ্ন রানিডাঙায় পরীক্ষার পরে মেডিকেল টেস্টেও পাশ করেন জয়শ্রী। নিয়োগপত্র এলে মধ্যপ্রদেশের বারোয়াতে তাঁর ট্রেনিং শুরু হয়।
জয়শ্রী বলেন, ‘ছোট থেকেই ইচ্ছে ছিল নিজেকে দেশের কাজে নিয়োজিত করব। তা ছাড়া বাহিনীর যে নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা সেটা আমাকে বার বার আকৃষ্ট করেছে। সেই কারণে বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করেছি।’ তাঁকে দেখে গ্রামের অন্য মেয়েরাও দেশের জন্য নিজেকে তৈরি করবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি। সত্যেন্দ্রনাথ বলেন, ‘মেয়েকে মানসিক ভাবে সমর্থন করেছি, সাহস জুগিয়েছি মাত্র। বাকিটা নিজের যোগ্যতায় অর্জন করেছে।’