‘চিন্তা করবেন না, আমি পাশে আছি’! প্রাতরাশের টেবিলে ‘বেসুরো’ সাংসদদের বার্তা মোদীর
নয়াদিল্লি: জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক সমীকরণ প্রকাশ্যে এল। দলের ‘বিদ্রোহী’ বা ‘বেসুরো’ সাংসদ গোষ্ঠীর সঙ্গে খাস নয়াদিল্লিতে প্রাতরাশে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র…
নয়াদিল্লি: জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক সমীকরণ প্রকাশ্যে এল। দলের ‘বিদ্রোহী’ বা ‘বেসুরো’ সাংসদ গোষ্ঠীর সঙ্গে খাস নয়াদিল্লিতে প্রাতরাশে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেই বৈঠকেই জল্পনা উস্কে দিয়ে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের অভয় দিলেন তিনি। সূত্রের খবর, এ দিনের এই বিশেষ ‘ব্রেকফাস্ট মিট’-এ উপস্থিত ‘বেসুরো’ সাংসদদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তায় বলেন, “চিন্তা করবেন না, আমি আপনাদের পাশে আছি।” দলের অন্দরে যখন এই সাংসদদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল, ঠিক সেই সময়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসবাণী জাতীয় তথা রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।
এই প্রাতরাশের বৈঠকে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদের উপস্থিতি। রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এ দিনের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ওই জেলার তিন ‘বেসুরো’ এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ। খোদ সাংসদ শতাব্দী রায় নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ দিনের ওই প্রাতরাশের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা বর্তমান সাংসদ ইউসুফ পাঠান। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলার এই তিন হেভিওয়েট নেতার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মোদীর দেওয়া এই আশ্বাস নিঃসন্দেহে রাজনীতির অঙ্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সূত্রের খবর, প্রাতরাশের টেবিলে অত্যন্ত খোশমেজাজেই আলোচনা হয়েছে। সাংসদরা তাঁদের এলাকার নানা সমস্যা, উন্নয়নমূলক কাজ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ পান। দলের অন্দরে যাঁরা কোণঠাসা বা ‘বেসুরো’ বলে পরিচিত, তাঁদের অভাব-অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন মোদী। এরপরই তিনি তাঁদের আশ্বস্ত করে পাশে থাকার বার্তা দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর এই বার্তার নেপথ্যে সুগভীর রাজনৈতিক কৌশল লুকিয়ে রয়েছে। বিক্ষুব্ধ নেতাদের অভাব-অভিযোগ শুনে তাঁদের কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যত এক বড় রাজনৈতিক চাল চাললেন। আপাতত দিল্লির এই ‘ব্রেকফাস্ট মিট’ এবং প্রধানমন্ত্রীর অভয়বাণী ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।