India-Myanmar Land Swap: মায়ানমারের সঙ্গে জমি অদল-বদল করবে ভারত! কেন এমন প্রস্তাব? | India Myanmar Proposal to swap lands Along Manipur Border, MEA Gives Big Hints
নয়া দিল্লি: ভারতের (India) ভূখণ্ড হয়ে যাবে মায়ানমারের (Myanmar)! আর মায়ানমারের জমিতে অধিকার স্থাপন হবে ভারতের! ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করতে পারে ভারত সরকার। অনুপ্রবেশ রুখতে এবং দেশের নিরাপত্তা বাড়াতে কেন্দ্রীয় সরকার দেশের প্রতিটি কোণের সীমান্ত সুরক্ষিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। সেই প্রস্তাবনারই একটি অংশ জমি অদল-বদল।
জমি অদল-বদল?
সূত্রের খবর, মায়ানমারের ১.৪৪ স্কোয়ার মাইল জমি মায়ানমারের সঙ্গে অদল-বদল করার আভ্যন্তরীণ প্রস্তাবনা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারত-মায়ানমার সীমান্তে স্পর্শকাতর এলাকায় জমি অদল-বদল করার চুক্তি করতে পারে। মূলত মণিপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা এটি।
মণিপুর সীমান্তে মায়ানমারের সঙ্গে জমি এক্সচেঞ্জ করা হবে কি না, এই জল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “সীমান্তের কিছু জায়গা নিয়ে এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। সেই অংশগুলি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে।”
কতটা জমি অদল-বদল করা হতে পারে?
এর আগে মার্কিন ম্যাগাজিন দ্য ডিপ্লোম্যাটে দাবি করা হয়েছিল যে নয়া দিল্লি মায়ানমারের সঙ্গে জমি অদল-বদলের পরিকল্পনা করছে। মণিপুরে মায়ানমারের সঙ্গে সীমান্তে ৬৫ থেকে ৬৮ নম্বর পিলারের মধ্যে ১.৪ স্কোয়ার মাইল জমি অদল-বদল করা হতে পারে পড়শি দেশের সঙ্গে।
মণিপুরের চান্ডেল জেলায় এই জমি অদল-বদল করা হতে পারে। উল্টোদিকে কাবাও ভ্যালি রয়েছে। যদি সীমান্ত নির্ধারণ বা চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া হয়, তাহলে তিন মাসের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে ১৬৪৩ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, যা অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও মিজোরামের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে অধিকাংশ এলাকাই জঙ্গলে ঘেরা। দুই দেশেই মূলত আদিবাসী সম্প্রদায় বসবাস করে।
১৪৭২ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ১৭১ কিলোমিটার এলাকায়, মূলত মণিপুরের কাবাও ভ্যালি ও অরুণাচল প্রদেশের লোহিত সেক্টরে সীমান্ত নিয়ে এখনও সমস্যা রয়েছে।
সূত্রের খবর, অনুপ্রবেশ রুখতে এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ রুখতে দেশের সীমান্তে কাঁটাতার দিতে চায় কেন্দ্র। এর মধ্যে মায়ানমারের সীমান্তও রয়েছে। ২০২৪ সালে ভারত সরকার ১৬৪৩ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার ঘোষণা করে। একইসঙ্গে ভারত-মায়ানমারের সীমান্তের মধ্যে মুক্ত চলাচলও বন্ধ করার কথা বলা হয়। ২০১৮ সাল থেকে সীমান্তের পাশে বসবাসকারী আদিবাসীরা বিনা ভিসায় দুই দেশের মধ্যে ১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারত শুধুমাত্র বর্ডার পাস দেখিয়ে। এদিকে, দুই দেশের মধ্যে এলাকা অদল-বদলের প্রস্তাবনা সামনে আসতেই মণিপুরে পুশব্যাকের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।