সম্পর্কে সতর্কবার্তা! FCRA সংশোধনী বিল নিয়ে ভারতের সমালোচনায় মার্কিন কংগ্রেসম্যান
ওয়াশিংটন: ভারতের Foreign Contribution (Regulation) Amendment Bill, 2026 (FCRA সংশোধনী বিল) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মার্কিন কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্য রাইলি মুর (Riley Moore)। মঙ্গলবার তিনি…
ওয়াশিংটন: ভারতের Foreign Contribution (Regulation) Amendment Bill, 2026 (FCRA সংশোধনী বিল) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মার্কিন কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্য রাইলি মুর (Riley Moore)। মঙ্গলবার তিনি দাবি করেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলি কার্যকর হলে সরকার চার্চ ও ধর্মীয় দাতব্য সংস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেতে পারে। তাঁর মতে, এই বিষয়টি ভবিষ্যতে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ একটি পোস্টে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কংগ্রেসম্যান রাইলি মুর বলেন, ভারতে খ্রিস্টধর্মের ইতিহাস বহু প্রাচীন এবং সেন্ট থমাসের মালাবার উপকূলে আগমনের সময় থেকে এর শিকড় বিস্তৃত। সেই ঐতিহ্যের উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ভারতের সংসদ এখন এমন একটি সংশোধনী বিবেচনা করছে, যা সরকারের হাতে চার্চ ও ধর্মীয় দাতব্য সংস্থার ব্যবস্থাপনা তুলে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি আরও দাবি করেন, “এটি খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট আক্রমণ। যদি এই বিল বর্তমান অবস্থায় পাশ হয়, তাহলে তা ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠবে।”
তবে প্রস্তাবিত Foreign Contribution (Regulation) Amendment Bill, 2026-এ কী রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিল অনুযায়ী, কোনও সংস্থার FCRA নিবন্ধন বাতিল, স্বেচ্ছায় সমর্পণ বা নবীকরণ না হওয়ার কারণে মেয়াদ শেষ হলে, সেই সংস্থার বিদেশি অনুদান এবং ওই অর্থে তৈরি সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য একটি Designated Authority গঠন করা হবে।
বিলে আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি ওই সম্পদের মধ্যে কোনও উপাসনালয় থাকে, তাহলে সেই স্থানের ধর্মীয় চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। অর্থাৎ, ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরিবর্তন হলেও উপাসনালয়ের ধর্মীয় পরিচয় বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়াও, বিলে FCRA আইন লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে এক বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, শাস্তির বিধানেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।
ভারতে বিদেশি অনুদান গ্রহণ ও ব্যবহারের বিষয়টি Foreign Contribution (Regulation) Act (FCRA)-এর আওতায় নিয়ন্ত্রিত হয়। এই আইনের অধীনে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (NGO), দাতব্য ট্রাস্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় সংগঠন এবং অন্যান্য সমিতি বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে পারে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৩,৫২০টি সংস্থা মোট ৫৫,৭৪১ কোটি টাকার বিদেশি অনুদান পেয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৪,৪৪৯টি সক্রিয় FCRA নিবন্ধন রয়েছে। অন্যদিকে, ২২,৪৯৮টি নিবন্ধন বাতিল হয়েছে এবং ১৫,২১২টির মেয়াদ শেষ হয়েছে।
রাইলি মুরের মন্তব্যের পর FCRA সংশোধনী বিল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যের বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বিলটি সংসদে কীভাবে এগোয় এবং চূড়ান্ত আইনে কী কী পরিবর্তন আসে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের