মমতা সামনে ১৮০০০ কোটির রেশন দুর্নীতি! তদন্তে উঠে আসছে ভয়ঙ্কর তথ্য
কলকাতা: বঙ্গে সরকার বদলের পর পুরনো প্রশাসনের বিভিন্ন প্রকল্প ও ব্যবস্থা (ration scam)নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে সর্বভারতীয় ন্যায্য মূল্যের…
কলকাতা: বঙ্গে সরকার বদলের পর পুরনো প্রশাসনের বিভিন্ন প্রকল্প ও ব্যবস্থা (ration scam)নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে সর্বভারতীয় ন্যায্য মূল্যের দোকান মালিকদের সংগঠন অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এনেছে। তাদের দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে রাজ্যের পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম তথা রেশন ব্যবস্থায় প্রায় ১৮০০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি হয়েছে।
এই ঘটনাই ইঙ্গিত দেয় যে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়ো কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য পাচার বা অপব্যবহার (ration scam)চলছিল।ফেডারেশনের সর্বভারতীয় মহাসচিব জানিয়েছেন, এই বিষয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও অভিযোগ জানানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আরও দেখুনঃ হাইকোর্টে বড় ধাক্কা! চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পেলেন না অভিষেক
পরে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দফতরে অভিযোগ পাঠানো হয়। তারপরই রাজ্যের ভিজিল্যান্স বা সতর্কতা বিভাগ গত ১৭ জুলাই থেকে এই মামলার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীরা এখন ধান কেনার রেকর্ড, রাইস মিলগুলির হিসাব এবং রেশন কার্ডের তথ্যভান্ডার খতিয়ে দেখছেন।
এই বিশাল অঙ্কের অর্থের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় এক কোটি অযোগ্য বা ভুয়ো রেশন কার্ড (ration scam)। সংগঠনের মতে, এই কার্ডগুলির মধ্যে অনেকগুলিরই মালিক ছিলেন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। দীর্ঘদিন ধরে এইসব কার্ডের বিপরীতে সরকারি খাদ্যশস্য সরবরাহ চলতে থাকে, যার ফলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় এবং রাজ্যের অর্থভাণ্ডারের ওপর বিপুল চাপ পড়ে।
ফেডারেশনের অভিযোগ অনুযায়ী, অনিয়ম দুটি প্রধান স্তরে ঘটেছে। প্রথমত, কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক গড়মিল। নিয়ম অনুসারে একজন কৃষকের কাছ থেকে দিনে সর্বোচ্চ পঁয়তাল্লিশ কুইন্টাল ধান কেনা যায়।
আরও দেখুনঃ সিসি ক্যামেরার ভয়ে তোলেননি ছবি! শুভেন্দুর বাড়ির কাছে একাধিকবার রেকি হামিমের
কিন্তু ২০২১-২২ সাল পর্যন্ত একই আধার নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলায় একই সময়ে ধান কেনার হিসাব দেখিয়ে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া অনেক রাইস মিল থেকে কাগজে-কলমে বিপুল পরিমাণ ধান কেনা হয়েছে বলে রেকর্ড তৈরি করা হয়, অথচ তার বড় অংশ সরকারি গুদামে কখনোই পৌঁছায়নি।
এর ফলে সরকারি মজুদে ঘাটতি দেখা দেয় এবং কৃষকদের ন্যায্য পাওনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে রেশন বিতরণ ব্যবস্থার ফাঁকফোকর। সংগঠনের দাবি, প্রায় এক কোটি এমন রেশন কার্ডের বিপরীতে নিয়মিত খাদ্যশস্য দেওয়া হয়েছে যেগুলি আদৌ যোগ্য ছিল না বা সম্পূর্ণ ভুয়ো (ration scam)। বায়োমেট্রিক যাচাই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর এই সংখ্যক উপভোক্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়েন। অর্থাৎ, আঙুলের ছাপ বা অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য মিলিয়ে দেখার পর দেখা যায়, ওই কার্ডগুলির পিছনে কোনো প্রকৃত ব্যক্তি নেই।
এই অভিযোগ রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রেশন ব্যবস্থা গরিব পরিবারগুলির জন্য প্রাণরক্ষা সমান। মাস শেষে সস্তায় চাল-গম পাওয়া অনেকের কাছে একমাত্র ভরসা। যদি সত্যিই এত বড় অঙ্কের অনিয়ম ঘটে থাকে, তাহলে সেই অর্থ দিয়ে কত মানুষের পেট ভরানো যেত, সেই প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে, কৃষকদের ধান কেনার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ কৃষিজীবী পরিবারগুলিকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।