দুর্গাপুজোর আগেই ফিরবে রাস্তার হাল, আশ্বাস মন্ত্রীর
এই সময়, হাওড়া: দীর্ঘদিন ধরেই হাওড়ার বহু রাস্তারই বেহাল দশা। তার জেরে রোজ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সেই যন্ত্রণা থেকে কি এ বার মুক্তি পেতে চলেছেন হাওড়াবাসী? রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই আশ্বাস দিয়েছেন, দুর্গাপুজোর আগেই হাওড়া শহরের ৯০ শতাংশেরও বেশি রাস্তার সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, হাওড়া শহরের রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রকল্পের ডিপিআর (ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট) তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বালি থেকে হাওড়াগামী জিটি রোড, জেএন মুখার্জি রোড, নস্করপাড়া রোড, সালকিয়া স্কুল রোড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বর্ষায় এই সমস্ত রাস্তায় বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায়, কোথাও নর্দমার জল জমে থাকছে, কোথাও আবার যান চলাচল কার্যত বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। প্রতি দিন স্কুল পড়ুয়া থেকে অফিসযাত্রী, মোটরবাইক আরোহী থেকে প্রবীণ নাগরিক, সবাইকেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহু বার জানানো হলেও, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে নতুন প্রশাসনের কাছে রাস্তা সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র আড়াই মাস। এর আগে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক এলাকায় পেভার ব্লক বসানো হলেও, শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলির যথাযথ সংস্কার হয়নি। ফলে, বর্ষার সময়ে সেই সমস্যাই প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রশাসনের দাবি, সরকার গঠনের পর থেকেই রাস্তা সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জিটি রোড সংস্কারের জন্য পূর্ত দপ্তরকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কাজের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, জেএন মুখার্জি রোড, নস্করপাড়া রোড, সালকিয়া স্কুল রোড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় আপাতত প্যাচওয়ার্কের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।
পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, ‘কিছু এলাকায় সম্প্রতি নিকাশি ব্যবস্থা ও পানীয় জলের পাইপলাইন বসানোর কাজ হওয়ায় রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। উপরন্তু, বর্ষার সময়ে জল জমে থাকায়, স্থায়ী ভাবে রাস্তা মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই, আপাতত অস্থায়ী মেরামতির কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বর্ষা শেষ হলেই পূর্ণাঙ্গ সংস্কার শুরু হবে।’ মন্ত্রীর দাবি, রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে।