উত্তরবঙ্গ-সিকিম ভ্রমণে বড় স্বস্তি? এক গাড়িতেই পুরো ট্যুরের জোরাল দাবি
কলকাতা: উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে পর্যটকদের (Sikkim Tourism) যাতায়াত আরও সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম সরকার। দুই রাজ্যের মধ্যে পারস্পরিক পরিবহণ চুক্তিতে (Reciprocal…
কলকাতা: উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে পর্যটকদের (Sikkim Tourism) যাতায়াত আরও সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম সরকার। দুই রাজ্যের মধ্যে পারস্পরিক পরিবহণ চুক্তিতে (Reciprocal Transport Agreement) একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিরা এমন একটি সমন্বিত পারমিট ব্যবস্থা চালুর দাবি তুলেছেন, যাতে পর্যটকদের আর মাঝপথে গাড়ি বদলাতে না হয়।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, সিকিমে নিবন্ধিত পর্যটন গাড়ির পারমিট কোটা ৩,০০০ থেকে বাড়িয়ে ৬,০০০ করা হবে। এছাড়া বিশেষ পারমিটপ্রাপ্ত সিকিমের ট্যুরিস্ট ট্যাক্সিগুলিকে শিলিগুড়ি থেকে ফেরার যাত্রী তোলার অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। রংপো-মেল্লি করিডরে পারমিট প্রক্রিয়াও আরও সহজ করা হবে। সংশোধিত চুক্তিটি চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারির আগে জনমতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে পর্যটন শিল্পের মতে, এই পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। ইস্টার্ন হিমালয়া ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন (EHTTOA) এবং নর্থ বেঙ্গল ট্যুরিস্ট ট্রান্সপোর্ট অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন (NBTTOA) একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করে পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের মধ্যে আরও কার্যকর ও পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক পরিবহণ নীতির দাবি জানিয়েছে।
বর্তমান ব্যবস্থায় পর্যটকদের সবচেয়ে বড় সমস্যার একটি হল স্থানীয় দর্শনীয় স্থান ঘোরার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ। পশ্চিমবঙ্গে নিবন্ধিত গাড়ি সাধারণত পর্যটকদের সিকিমে পৌঁছে দিতে পারে, কিন্তু গ্যাংটক, পেলিং বা অন্যান্য স্থানীয় দর্শনীয় এলাকায় ঘোরাতে পারে না। একইভাবে সিকিমে নিবন্ধিত গাড়িও দার্জিলিংয়ে স্থানীয় দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করাতে পারে না।
এর ফলে বহু পর্যটককে সফরের মাঝপথে গাড়ি বদলাতে হয়। লাগেজ নামিয়ে আবার অন্য গাড়িতে তুলতে হয় এবং অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হয়। পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, একটি সমন্বিত পারমিট ব্যবস্থা চালু হলে একই গাড়িতে পুরো ভ্রমণ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে পর্যটকদের সময় ও খরচ দুই-ই কমবে এবং পর্যটন শিল্পও আরও গতিশীল হবে।
দুই রাজ্যের সাম্প্রতিক বৈঠকে শুধু পরিবহণ নয়, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। শিলিগুড়িতে সিকিমের রোগীদের জন্য একটি ‘সুস্বাস্থ্য ভবন’ (Suswastha Bhawan) গড়ে তোলার প্রস্তাব উঠে এসেছে। পাশাপাশি ২০২৩ সালের গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (GLOF)-এর পর তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের যোগাযোগের প্রধান সড়ক জাতীয় সড়ক ১০ (NH-10)-এর উন্নয়ন নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে। পর্যটন ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ককে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পর্যটন মহলের আশা, প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলি কার্যকর হলে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ভ্রমণ আরও সহজ, দ্রুত এবং পর্যটকবান্ধব হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে দুই রাজ্যের পর্যটন শিল্প, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে।