অগস্টে ফের বৃষ্টি-ঘাটতির আশঙ্কা দেশে, কাটল জুনের ধাক্কা - 24 Ghanta Bangla News
Home

অগস্টে ফের বৃষ্টি-ঘাটতির আশঙ্কা দেশে, কাটল জুনের ধাক্কা

Spread the love

কুবলয় বন্দ্যোপাধ্যায়

জুনে বৃষ্টির ঘাটতির ধাক্কা অনেকটাই সামলে দিয়েছে জুলাই। স্বস্তি ফিরেছে দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক সক্রিয়তায়।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারত জুনে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত পেলেও জুলাইয়ে দেশ জুড়ে বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে এক শতাংশ বেশি হয়েছে। এর ফলে বর্ষার প্রথম দুই মাসে গোটা দেশে বৃষ্টির সার্বিক ঘাটতি ১১ শতাংশে নেমে এসেছে। ৪ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত গোটা দেশ ৪৪৬.৩ মিমির বদলে ৩৯৫.৫ মিমি বৃষ্টি পেয়েছে।

তবে জুলাইয়ে বৃষ্টির ডাকাবুকো ইনিংসের পুনরাবৃত্তি অগস্টে আদৌ হবে কি না তা নিয়ে রীতিমতো সংশয়ে আবহবিদরা। কারণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস সংক্রান্ত মডেলগুলো ইতিমধ্যেই অগস্টে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির পূর্বাভাস দিতে শুরু করেছে।

৩ থেকে ৩১ জুলাই — ২৮ দিনে দেশের ৩৪টি এমন জায়গার কথা উল্লেখ করেছে মৌসম ভবন, যেখানে ২৪ ঘণ্টায় ২০০ মিমি বা তার চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে তালিকার শীর্ষে রয়েছে গুজরাটের ভালসাড় জেলার উমরগামের নাম। ২৩ জুলাই সেখানে ২৪ ঘণ্টায় ১,০৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। দেশের ইতিহাসে একদিনে এর চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের নজির মাত্র দু’টি। ১৯৯৫–তে মেঘালয়ের সোহরায় ১,৫৬৩.৩ মিলিমিটার এবং ২০০৪–এ লক্ষদ্বীপের আমিনিদিভিতে ১,১৬৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। আইএমডি উমরগামের এই ঘটনাকে ‘ব্যতিক্রমী অতি ভারী বৃষ্টিপাত’ বলে উল্লেখ করেছে।

মৌসম ভবনের রিপোর্ট অনুযায়ী জুলাইয়ের আবহাওয়া ছিল চরম বৈপরীত্যে ভরা। মাসের শুরুতে দেশ জুড়ে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল প্রায় ৩৫ শতাংশ। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে মরশুমের প্রথম নিম্নচাপ সৃষ্টি এবং তার দ্রুত অগ্রগতির ফলে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের সব প্রান্তে বর্ষা পৌঁছে যায়। ২ থেকে ৮ জুলাইয়ের মধ্যে সর্বভারতীয় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি থাকলেও, ৯ থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে তা আবার ৫১ শতাংশ ঘাটতিতে নেমে আসে। ফলে একদিকে প্রবল বর্ষণ, অন্যদিকে দীর্ঘ শুষ্ক আবহাওয়া — জুলাই জুড়ে দু’রকমের ছবিই দেখা গিয়েছে। আবহবিদদের মতে, বর্ষায় নিম্নচাপই দেশের প্রধান বৃষ্টিবাহী ব্যবস্থা। উষ্ণ বায়ু উপরে উঠে গিয়ে নিম্নচাপ সৃষ্টি করে। যার ফলে মেঘ, বজ্রঝড় ও প্রবল বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়। গোটা জুলাই ধরে পর পর বেশ কয়েকটা শক্তিশালী নিম্নচাপ তৈরির জন্যই দেশের বিভিন্ন অংশে ক্রমাগত ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।

কিন্তু তার পরেও পরিস্থিতি পুরোপুরি আশাব্যঞ্জক নয়। দেশের ১৬টি রাজ্য এখনও বৃষ্টির ঘাটতিতে চলছে। এই রাজ্যগুলোর মধ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের পাঁচটি রাজ্যও রয়েছে। এই রাজ্যগুলো দেশের মোট ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ৩৬ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত। আইএমডি-র ডিরেক্টর মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, অগস্ট এবং অগস্ট ও সেপ্টেম্বর মিলিয়েও গোটা দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা খুব বেশি। ওই সময়েই প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনিওর প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরের জলের উপরিতলের উষ্ণতা বাড়িয়ে দেওয়া এই সিস্টেম সাধারণত ভারতের মৌসুমি বায়ুর প্রভাবকে দুর্বল করে দিয়ে বৃষ্টির পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

যদিও সেপ্টেম্বরে ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল (আইওডি) অল্প হলেও পজ়িটিভ পর্যায়ে যেতে পারে। এর ফলে এল নিনিওর বিরূপ প্রভাব কিছুটা প্রশমিত করতে পারে বলে আবহাওয়াবিদদের আশা। আইওডি হলো ভারত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ওঠানামা। প্রশান্ত মহাসাগরের মতো এটিও ভারতের বর্ষাকে প্রভাবিত করে। মহাসাগরের পশ্চিম দিক পূর্বের তুলনায় বেশি উষ্ণ থাকলে ভারতে বর্ষা শক্তিশালী হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে এল নিনিওর নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা কমে যায়।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *