‘হরমুজ খোলো না হলে কড়া হামলা!’, অচলাবস্থার মাঝেই ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ওয়াশিংটন: চলতি কূটনৈতিক আলোচনার মাঝেই ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার তিনি স্পষ্ট জানান, আন্তর্জাতিক আলোচনা থেকে তেহরান পিছিয়ে আসলে তাদের নজিরবিহীন…
ওয়াশিংটন: চলতি কূটনৈতিক আলোচনার মাঝেই ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার তিনি স্পষ্ট জানান, আন্তর্জাতিক আলোচনা থেকে তেহরান পিছিয়ে আসলে তাদের নজিরবিহীন সামরিক অভিযানের মুখোমুখি হতে হবে। একইসঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) “খুব শীঘ্রই” খুলে দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, আমেরিকা নাকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবথেকে বড় সামরিক হামলার পরিকল্পনা করেছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই ওয়াশিংটনের কাছে আলোচনার আকুতি জানায় ইরান।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ওরা (ইরান) আমাকে ফোন করে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বলে, ‘অনুগ্রহ করে আমরা কি আলোচনায় বসতে পারি?’ আমি সম্মাত হই। বিগত ৫০ বছর ধরে অন্য প্রেসিডেন্টদের এই কাজটিই করা উচিত ছিল।”
তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির বড়সড় বদল দেখা যেতে পারে।
পারমাণবিক অস্ত্র ও হরমুজ প্রণালী খোলার বার্তা
তেহরান জনসমক্ষে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার বিষয় এড়িয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, আমেরিকা কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না।
হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালী খুব শীঘ্রই খুলে দেওয়া হবে। আর তা না হলে ওদের ওপর এত কড়া আঘাত হানা হবে যে, ওরা নিজের থেকেই প্রণালী খুলে দিতে বাধ্য হবে।” তিনি আরও বলেন, “ওরা যদি আলোচনা থেকে পিছিয়ে যায়, তবে ওদের চরম মাশুল গুনতে হবে। ওরা সেটা খুব ভালো করেই জানে এবং বোঝে। আমার কাছে আর কোনো বিকল্প নেই, কারণ ইরান কিছুতেই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না।”
আমেরিকার দাবি খারিজ ইরানের
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ খনিজ তেল যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে প্রায় ছয় মাস ধরে টানাপোড়েন চলছে। মার্কিন ট্রেজারি সচিব (অর্থমন্ত্রী) স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে একটি চুক্তি হয়তো আজ বা কালকের মধ্যেই হয়ে যেতে পারে।
তবে ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রশাসনের এই দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের জাতীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্টের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে না। তেহরান বর্তমানে ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চালাচ্ছে। ইরানের স্পষ্ট বক্তব্য, সমুদ্রপথে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রেখেই নতুন একটি সামুদ্রিক রূপরেখা তৈরি করতে ওমানের সঙ্গে কথা বলছে তারা, আমেরিকার সঙ্গে কোনো প্রত্যক্ষ চুক্তি বা দরকষাকষি হচ্ছে না।
‘ভারতের আর্টিকেল ৩৭০ বাতিলের কূটনৈতিক চালে খুলে গিয়েছে পাক সরকারের মুখোশ!’ দাবি পাক বিশেষজ্ঞের
সীমান্তে ২৫০টি চিনা হাউইৎজার নামাল পাকিস্তান, কোন গভীর চাল চালছে ইসলামাবাদ?