রাশিয়ার ভিতরে দূরপাল্লার হামলায় জোর, ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ইউক্রেনের Fire Point
কিয়েভ: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia Ukraine War) শুরু হওয়ার পর ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় পরিবর্তন এসেছে। একসময় বিদেশি সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল দেশটি এখন নিজস্ব প্রযুক্তিতে…
কিয়েভ: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia Ukraine War) শুরু হওয়ার পর ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় পরিবর্তন এসেছে। একসময় বিদেশি সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল দেশটি এখন নিজস্ব প্রযুক্তিতে উন্নত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। এই অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেন ইতিমধ্যেই রাশিয়ার অভ্যন্তরে সামরিক ঘাঁটি, গোলাবারুদের ডিপো, তেল শোধনাগার এবং অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সংস্থা Fire Point, যারা দূরপাল্লার ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভবিষ্যতের আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করছে।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর ইউক্রেনের বহু প্রতিরক্ষা সংস্থা দেশীয় অস্ত্র উৎপাদনে জোর দেয়। Fire Point সেই নতুন প্রজন্মের সংস্থাগুলির অন্যতম। সংস্থার লক্ষ্য শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানো নয়, দীর্ঘমেয়াদে ইউক্রেনকে উন্নত অস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভর করে তোলা।
বর্তমানে Fire Point-এর অস্ত্রভাণ্ডারে রয়েছে FP-1 এবং FP-2 নামে দূরপাল্লার স্ট্রাইক ড্রোন, পাশাপাশি Flamingo নামে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। সংস্থার দাবি, এই অস্ত্রগুলি সামনের যুদ্ধক্ষেত্রের বহু দূরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম। এর মাধ্যমে ইউক্রেনের গভীর-স্ট্রাইক (Deep Strike) সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
The War Zone-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে Fire Point-এর সিইও ইরিনা তেরেখ বলেন, যুদ্ধ ইউক্রেনকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সামরিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভবিষ্যতে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে এবং দ্রুত নতুন প্রযুক্তি তৈরি করতে নিজস্ব উৎপাদনই সবচেয়ে বড় ভরসা।
ইরিনা তেরেখ বলেন, “আমরা যুদ্ধ জয়ের এবং রাশিয়ান সাম্রাজ্যকে পরাজিত করার লক্ষ্য নিয়েই এই পথচলা শুরু করেছি।” তিনি জানান, Fire Point-এর প্রথম বড় লক্ষ্য ছিল ইরানের Shahed আক্রমণকারী ড্রোনের সমমানের একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন তৈরি করা। সেই প্রকল্পে সোভিয়েত যুগের FAB-50 বোমাও ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
তবে সংস্থাটি শুধু ড্রোন তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। Fire Point ভবিষ্যতের জন্য একটি বিস্তৃত অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তুলছে। তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে Flamingo ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, FP সিরিজের দূরপাল্লার ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র।
বিশেষ করে Flamingo ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে সংস্থাটি ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলার অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে দেখছে। ইরিনা তেরেখের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে পারে এবং একই সঙ্গে কম খরচে বড় সংখ্যায় উৎপাদন সম্ভব হয়। এতে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমবে।
আধুনিক যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) গুরুত্বও দ্রুত বাড়ছে বলে মনে করছেন Fire Point-এর সিইও। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের অস্ত্রে AI ব্যবহার করে নেভিগেশন, লক্ষ্য শনাক্তকরণ, মিশন পরিকল্পনা এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রতিরোধের ক্ষমতা আরও উন্নত করা হবে।
ইরিনা তেরেখ আরও বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কাছে উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুধু যুদ্ধের কৌশলই বদলায়নি, অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রেও নতুন দিশা দেখিয়েছে। Fire Point-এর মতো সংস্থাগুলি সেই পরিবর্তনের অন্যতম মুখ হয়ে উঠছে, যেখানে কম খরচে, দূরপাল্লার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্র ভবিষ্যতের যুদ্ধনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
Also Read | NEET কে অনলাইনে নিয়ে যেতে চায় কেন্দ্র! কিন্তু বাস্তব কি বলছে ?
Also Read | পুলিশের পোশাক জাল করে যন্তরমন্তরে নাশকতার ছক! হামিমকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য STF র
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা