মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যা ছিলেন এবং যা হইয়াছেন
অন্য দিকে গত আড়াই শতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতি লাতিন আমেরিকা এবং বৃহত্তর উন্নয়নশীল বিশ্বের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে গভীর ভাবে বদলে দিয়েছে। ‘মনরো নীতি’ (মনরো ডকট্রিন) ঘোষণার মাধ্যমে ওয়াশিংটন সমগ্র পশ্চিম গোলার্ধকে নিজের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। লাতিন আমেরিকায়, মার্কিন প্রভাবের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার এখনও স্পষ্ট। সাম্প্রতিক সময়ে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অভিবাসন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিউবা ও ভেনেজ়ুয়েলার ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। অন্য দিকে, মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য, অভিবাসন ও সীমান্ত-নিরাপত্তা মার্কিন সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় তেল, ইজ়রায়েল-এর নিরাপত্তা, ইরানকে নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মার্কিন নীতির প্রধান উদ্দেশ্য। সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় রাজতন্ত্রের সঙ্গে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও চাপ অব্যাহত রয়েছে। ইরাক যুদ্ধ এবং তার পরবর্তী অস্থিরতা অবশ্য মার্কিন হস্তক্ষেপের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে ইজ়রায়েলকে সমর্থন, উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চিন ও রাশিয়ার আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলার চেষ্টা করছে। সুতরাং, সাম্প্রতিক মার্কিন নীতির বৈশিষ্ট্য হলো সরাসরি দখল বা সামরিক নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে কৌশলগত অংশিদারিত্ব, অর্থনৈতিক প্রভাব, নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা জোটের মাধ্যমে নিজের প্রভাব বজায় রাখা। এই আধিপত্য কায়েম করার নীতি কতটা আমেরিকান বিপ্লবের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের গণতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, সেই চর্চা পৃথিবীর মানুষ গত আড়াইশো বছর ধরে করে চলেছে।