বারান্দায় খাওয়া, ক্লাসে গবাদি পশু! বেহাল স্কুলের দশা! ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবকেরা
ময়নাগুড়ি: পরিকাঠামোগত নানা সমস্যায় ধুঁকছে জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকের খাগড়াবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পাদুড়িপাড়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্র। স্কুলের এই বেহাল দশায় এবার ক্ষোভে ফুঁসছেন…
ময়নাগুড়ি: পরিকাঠামোগত নানা সমস্যায় ধুঁকছে জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকের খাগড়াবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পাদুড়িপাড়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্র। স্কুলের এই বেহাল দশায় এবার ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে খুদে পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল খাওয়ার জন্য ন্যূনতম কোনো উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। রোদ হোক বা প্রবল বৃষ্টি, বাধ্য হয়ে স্কুলের বারান্দায় বসেই খাবার খেতে হয় শিশুদের। সমস্যা এখানেই সীমাবদ্ধ নেই, দেখা দিয়েছে পানীয় জলের তীব্র সংকটও। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে শিশুদের জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হলেও অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা জলের কলগুলি ভেঙে দিয়ে গিয়েছে।
সীমানা প্রাচীর না থাকায় অবাধে গবাদি পশুর প্রবেশ
স্কুলের নিজস্ব কোনো সীমানা প্রাচীর না থাকায় স্কুল চত্বরে অবাধে গরু, ছাগলের মতো গবাদি পশু প্রবেশ করছে। যখন-তখন স্কুলের বারান্দায় উঠে পড়ছে তারা। এর ফলে প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে পঠনপাঠনের সুস্থ পরিবেশ। গবাদি পশুর মলমূত্রে স্কুল প্রাঙ্গণ অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ছে।
পাদুড়িপাড়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকা স্বপ্না মোদক আক্ষেপের সুরে জানান, “স্কুলের সীমানা প্রাচীর না থাকার কারণেই মূলত এই সমস্ত সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রাচীর না থাকায় যখন তখন বারান্দায় গবাদি পশু উঠে পড়ছে। আবার রাতের বেলায় কোনো নিরাপত্তা নেই স্কুল চত্বরের, যার সুযোগ নিচ্ছে দুষ্কৃতীরা।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি
স্কুলের এই শোচনীয় পরিস্থিতিতে অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন পড়ুয়াদের অভিভাবকেরা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, শিশুদের সুরক্ষা এবং সুস্থ পঠনপাঠনের স্বার্থে প্রশাসন দ্রুত এই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের চারধারে একটি সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ব্যবস্থা করুক, যাতে পড়ুয়ারা একটি সুরক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে শিক্ষালাভ করতে পারে।