নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠকে বাংলার চা শিল্প ও শ্রমিক কল্যাণে জোর
নয়াদিল্লি: রাজধানীতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে বৈঠক করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রাজ্যের চা শিল্পের পুনরুজ্জীবন, বন্ধ চা-বাগান…
নয়াদিল্লি: রাজধানীতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে বৈঠক করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রাজ্যের চা শিল্পের পুনরুজ্জীবন, বন্ধ চা-বাগান পুনরায় চালু করা এবং বস্ত্র শিল্পের শ্রমিকদের কল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে ন্যাশনাল কনফেডারেশন অফ পিপলস ইন্টারেস্ট (NCPI)-এর চারজন সাংসদও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী জানান, আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে। তিনি বলেন, আর্থিক বিষয় ছাড়াও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বিশেষভাবে চা-বাগানের শ্রমিক এবং তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কল্যাণে আগ্রহ দেখিয়েছেন। রাজ্যের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের উন্নয়নে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বৈঠকে উপস্থিত বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা বলেন, উত্তরবঙ্গের চা শিল্পকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে বন্ধ হয়ে থাকা চা-বাগানগুলি পুনরায় চালু করা, চালু বাগানগুলির কার্যক্রম আরও উন্নত করা, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং পশ্চিমবঙ্গে এখনও সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে চা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই শিল্পের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। তাই বন্ধ চা-বাগান চালু হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁত ও বস্ত্রশিল্পের শ্রমিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
একই দিনে শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীর সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে PM SHRI Schools প্রকল্পের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী।
এছাড়াও প্রহ্লাদ জোশী রাজ্যে PM Surya Ghar: Muft Bijli Yojana-র বাস্তবায়ন আরও দ্রুত করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই প্রকল্প দ্রুত কার্যকর হলে আরও বেশি পরিবার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের সুবিধা পাবে এবং বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারও বাড়বে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠকগুলিতে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প, শিক্ষা এবং সামাজিক কল্যাণ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। বিশেষ করে চা শিল্প, বস্ত্রশিল্প এবং কেন্দ্রীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন নিয়ে ভবিষ্যতে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।