জুভেন্তাস-ডর্টমুন্ডে ভাইরাল রবি কিষাণ, ফুটবল দুনিয়ায় মিমের ঝড়
বাবান আদক, কলকাতা: বিশ্ব ফুটবলে পেপ গুয়ার্দিওলার ‘টিকি টাকা’ কিংবা জুর্গেন ক্লপের ‘প্রেসিং ফুটবল’ নিয়ে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের বিস্তর গবেষণা তো অনেক হলো। এবার বোধহয় সময়…
বাবান আদক, কলকাতা: বিশ্ব ফুটবলে পেপ গুয়ার্দিওলার ‘টিকি টাকা’ কিংবা জুর্গেন ক্লপের ‘প্রেসিং ফুটবল’ নিয়ে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের বিস্তর গবেষণা তো অনেক হলো। এবার বোধহয় সময় এসেছে ফুটবলের ট্যাকটিক্যাল সিলেবাসে আদ্যোপান্ত এক ‘ভোজপুরি’ ঘরানাকে অন্তর্ভুক্ত করার! আজ্ঞে হ্যাঁ, একেবারে ঠিকই পড়ছেন। ইতালির জুভেন্তাস এবং জার্মানির বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের তাবড় তারকারা আজকাল বল পায়ে ড্রিবলিং বা গোল লক্ষ্য করে শট নেওয়ার চেয়ে ইনস্টাগ্রামে ভোজপুরি সুপারস্টার এবং সাংসদ রবি কিষাণের (Ravi Kishan) মিম শেয়ার করতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন। ৫৭ বছর বয়সী এই অভিনেতা জীবনে কোনোদিন ইউরোপের ঘাসে এক মিনিটও না দৌড়ে, স্রেফ মিমের জাদুতে ইউরোপিয় ফুটবলের অন্যতম চর্চিত আইকনে পরিণত হয়েছেন।
গোটা বিশ্ব যখন এই ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনে হতবাক, তখন এই হাস্যকর ট্রেন্ডের নেপথ্যের পরিসংখ্যানটা একটু খতিয়ে দেখা যাক। সম্প্রতি অ্যামাজন প্রাইমের রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যালায়েন্স’-এ মেয়ে রিভা কিষাণের সাথে অংশ নিয়েছিলেন রবি বাবু। কিন্তু গোরক্ষপুর কেন্দ্রের সাংসদকে মাঝপথেই জরুরি তলবে ফিরে যেতে হয়। শো ছাড়ার সময় তিনি একখানা অস্কারজয়ী সংলাপ ছুঁড়ে দেন, “আপনাকে এই মুহূর্তেই দেশের ডিউটির জন্য ডাকা হচ্ছে এবং এখনই হেডকোয়ার্টার্স ছাড়তে হবে”।
এই ‘হেডকোয়ার্টার্স’ তত্ত্বই এখন জুভেন্তাসের ফুটবলারদের নতুন রণনীতি! তারা রীতিমতো খেলোয়াড়দের নিয়ে মিমের ভিডিও কম্পাইলেশন বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে।
তবে রবি কিষাণের ফুটবলীয় ‘ভিশন’ এখানেই থেমে নেই। তিনি কর্পোরেট দুনিয়াকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর এক নতুন এবং যুগান্তকারী ধারণা দিয়েছেন “আজকাল হোম ফ্রম ওয়ার্ক খুব জরুরি”! কে জানে, হয়তো ডর্টমুন্ডের কোচ তাদের ডিফেন্ডারদের এই অভিনব ‘হোম ফ্রম ওয়ার্ক’ থিওরিতেই খেলাতে চাইছেন, যাতে তারা নিজেদের পেনাল্টি বক্সেই আরাম করে বসে থাকতে পারে।
পরিসংখ্যানের খাতায় গোল বা অ্যাসিস্টের ঘরে আস্ত গোল্লা থাকলেও, মিমের দুনিয়ায় তিনি এখন অনায়াসেই ‘ব্যালন ডি’অর’ দাবি করতে পারেন। স্বয়ং রবি কিষাণ ‘মিড-ডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিছুটা হতবাক হয়েই স্বীকার করেছেন, অনেকেই তাকে ভারতের “সবচেয়ে ভাইরাল মানুষ” বলছেন। ইউরোপের তাবড় ক্লাবগুলো যখন ফর্মেশন ভুলে ভোজপুরি মিমের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে, তখন রবি বাবুর এই ‘হেডকোয়ার্টার্স’ ছাড়ার ডাকই হয়তো বিশ্ব ফুটবলের আগামী দিনের নতুন বিপ্লব!