NEET কে অনলাইনে নিয়ে যেতে চায় কেন্দ্র! কিন্তু বাস্তব কি বলছে ?
নয়াদিল্লি: নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কের পর (NEET)সরকার এবার পুরো পরীক্ষাটিকে কম্পিউটার ভিত্তিক টেস্ট (CBT) মোডে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, এই সিদ্ধান্ত…
নয়াদিল্লি: নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কের পর (NEET)সরকার এবার পুরো পরীক্ষাটিকে কম্পিউটার ভিত্তিক টেস্ট (CBT) মোডে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা একেবারেই সহজ হবে না। ২৪ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে দেশের সবচেয়ে বড় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষাকে কম্পিউটারে সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে গেলে বড় বড় কারিগরি ও লজিস্টিক্যাল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।
ভারতে প্রতি বছর প্রায় ২৪ লাখ শিক্ষার্থী নিট-ইউজি (NEET)পরীক্ষায় অংশ নেন। বর্তমানে দেশে সিবিটি মোডে একদিনে সর্বোচ্চ ১.৫ লাখ পরীক্ষার্থীকে একসঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ, পুরো পরীক্ষাটি সম্পন্ন করতে অন্তত ১৫ থেকে ১৬ দিন সময় লাগতে পারে। একাধিক শিফটে পরীক্ষা নেওয়ার ফলে প্রশ্নপত্র তৈরি, সুরক্ষা এবং ফলাফলের ন্যায্যতা নিয়ে নতুন নতুন জটিলতা দেখা দিতে পারে।
আরও দেখুনঃ ভোররাতে প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ইঞ্জিনে ভয়াবহ আগুন! ভস্মীভূত তিনটি বগি
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল প্রশ্নব্যাংক তৈরি করা। অফলাইন মোডে একটি বা দু’টি সেট প্রশ্নপত্রই যথেষ্ট হয়। কিন্তু সিবিটিতে ১৫-১৬ দিন ধরে একাধিক শিফট চললে হাজার হাজার ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নের একটি বিশাল ব্যাংক তৈরি করতে হবে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, এত বড় প্রশ্নভাণ্ডার তৈরি করা এবং প্রতিটি শিফটে সমমানের কঠিনতা বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন কাজ।
এক শিফটের প্রশ্ন অন্য শিফটের চেয়ে সহজ বা কঠিন হলে ফলাফলে বৈষম্য তৈরি হবে (NEET)।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্কোর নরমালাইজেশনের সমস্যা। বিভিন্ন শিফটের মধ্যে স্কোর সমান করার জন্য জটিল পরিসংখ্যানিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়। অতীতে জেইই এবং অন্যান্য সিবিটি পরীক্ষায় এই নরমালাইজেশন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। নিটের মতো এত বড় স্কেলে এই পদ্ধতি কতটা ন্যায্য হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
অনেকে আশঙ্কা করছেন, নরমালাইজেশনের নামে কেউ সুবিধা পাবে, (NEET)কেউ বঞ্চিত হবে।আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো নতুন ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধ করা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা যদিও অফলাইনেও ঘটে, সিবিটিতে সাইবার হামলা, সার্ভার হ্যাকিং, প্রক্সি পরীক্ষা, ডিভাইস ম্যানিপুলেশনের মতো ঝুঁকি বেড়ে যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকায় কম্পিউটার ল্যাব, স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাব রয়েছে।
আরও দেখুনঃ অগ্নি-৫ ভয়ঙ্কর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা! ভারত মহাসাগরে জারি হল নোটাম
হাজার হাজার কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা চালাতে গেলে এসব পরিকাঠামোগত সমস্যা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।সরকারি কর্মকর্তারা বর্তমানে এই বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিএ (ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি) কর্তৃপক্ষ চাইছে যে কোনো মোডেই পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা যেন ক্ষুণ্ণ না হয়।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে মনে করেন, সিবিটি মোডে পরীক্ষা হলে প্রশ্ন ফাঁসের ঝুঁকি কমবে এবং ফলাফল দ্রুত প্রকাশিত হবে। আবার অনেকে বলছেন, গ্রামের ছেলেমেয়েরা কম্পিউটারে অভ্যস্ত নয়। তাদের জন্য এটি অসুবিধাজনক হবে। কোচিং সেন্টারগুলোও নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হিমশিম খাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিটকে সিবিটিতে নিয়ে যাওয়ার আগে ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা উচিত। প্রথমে ছোট আকারে, তারপর ধীরে ধীরে বড় স্কেলে। একই সঙ্গে পরিকাঠামো উন্নয়ন, প্রশ্নব্যাংকের মান নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
আরও দেখুনঃ পাঁচ বছরের জন্য বাড়ল পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি যোজনা! তবুও মোদী সরকারে খুশি নয় কৃষকরা