AI-র যুগে বদলাচ্ছে চাকরির ইন্টারভিউ, অফিসে ফিরছে মুখোমুখি দক্ষতা পরীক্ষা
কলকাতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) যত উন্নত হচ্ছে, ততই বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির নিয়োগ প্রক্রিয়া। আগে যেখানে অনলাইন কোডিং টেস্ট এবং ভার্চুয়াল ইন্টারভিউর উপর নির্ভর করত…
কলকাতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) যত উন্নত হচ্ছে, ততই বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির নিয়োগ প্রক্রিয়া। আগে যেখানে অনলাইন কোডিং টেস্ট এবং ভার্চুয়াল ইন্টারভিউর উপর নির্ভর করত অনেক সংস্থা, এখন আবার প্রার্থীদের অফিসে ডেকে সামনাসামনি ইন্টারভিউ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। কারণ, নিয়োগকর্তাদের বড় উদ্বেগ এখন একটাই, ইন্টারভিউ দিচ্ছেন প্রার্থী নিজে, নাকি তাঁর হয়ে উত্তর দিচ্ছে কোনও AI চ্যাটবট।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ নিক ব্লুম সম্প্রতি ফিনান্সিয়াল টাইমস-এর Economics Show পডকাস্টে বলেন, AI টুলের কারণে অনলাইন প্রযুক্তিগত মূল্যায়নের উপর অনেক সংস্থার আস্থা কমে গেছে। তাঁর কথায়, এখন নিয়োগকারীদের মনে প্রশ্ন উঠছে, “আপনি কি Claude-কে ইন্টারভিউ নিচ্ছেন, নাকি সেই ব্যক্তিকে?” এখানে Claude বলতে তিনি AI সংস্থা Anthropic-এর জনপ্রিয় চ্যাটবটের কথা উল্লেখ করেন।
নিক ব্লুমের মতে, অনেক প্রযুক্তি সংস্থা এখন ইন্টারভিউর মাঝের এবং শেষ ধাপগুলি সরাসরি অফিসে আয়োজন করছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল, প্রার্থীরা যাতে AI-এর সাহায্যে উত্তর না দিতে পারেন এবং তাঁদের প্রকৃত দক্ষতা যাচাই করা যায়।
Also Read | Samsung Galaxy S26 FE লঞ্চ আসন্ন? FCC-তে মিলল অনুমোদন, ফাঁস চার্জিং-সহ একাধিক তথ্য
দীর্ঘদিন ধরেই প্রযুক্তি সংস্থাগুলি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বা প্রযুক্তিগত পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনলাইন কোডিং টেস্ট ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। ভার্চুয়াল ইন্টারভিউ চলাকালীন প্রার্থীরা সহজেই AI চ্যাটবটের কাছে প্রশ্ন করতে পারেন এবং সেখান থেকে পাওয়া উত্তর পড়ে শোনাতে পারেন। ফলে একজন প্রার্থীর প্রকৃত প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিচার করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।
নিক ব্লুম বলেন, আগে অনেক সংস্থা শুধুমাত্র কোডিং পরীক্ষার ফলের উপর ভিত্তি করে কর্মী নিয়োগ করত। কিন্তু AI-এর যুগে সেই পদ্ধতি আর আগের মতো নির্ভরযোগ্য নয়।
নিয়োগ সংক্রান্ত প্ল্যাটফর্ম Greenhouse-এর তথ্যও একই প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংস্থার ২০২৫ সালের AI in Hiring Report-এ দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯ শতাংশ হায়ারিং ম্যানেজার এখন প্রার্থীদের দক্ষতা যাচাই করতে আগের তুলনায় বেশি সংখ্যায় সরাসরি অফিসে ইন্টারভিউ নিচ্ছেন।
৪,১০০-এরও বেশি চাকরিপ্রার্থী, নিয়োগকারী এবং হায়ারিং ম্যানেজারের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, AI-নির্ভর উত্তর এবং ভুয়ো পরিচয়ে চাকরির আবেদন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সংস্থাগুলি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনছে।
Also Read | IIEST শিবপুরে ৪.৪ একরের নেচার স্টাডি পার্ক, থাকছে বাটারফ্লাই গার্ডেন থেকে ওপেন-এয়ার জিম
Greenhouse-এর ২০২৬ সালের AI in Hiring Report-এও একই প্রবণতা দেখা গেছে। যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড এবং জার্মানির বিভিন্ন সংস্থা এখন AI-সহায়ক আবেদন এবং নিয়োগ জালিয়াতির আশঙ্কা মাথায় রেখে আরও ব্যবহারিক মূল্যায়নের উপর জোর দিচ্ছে। তবে সব প্রযুক্তি সংস্থা AI ব্যবহারের বিরোধিতা করছে না। বরং কিছু সংস্থা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় AI-কে গ্রহণ করার পথ বেছে নিয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে Google একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করে, যেখানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং পদের প্রার্থীদের নির্দিষ্ট AI সহকারী ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়। একইভাবে AI-কেন্দ্রিক স্টার্টআপ Cognition, Base44 এবং Replit-ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় AI-কে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এই সংস্থাগুলির মতে, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে AI ব্যবহার একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। তাই শুধুমাত্র AI ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে তারা দেখছে, একজন প্রার্থী AI-এর সাহায্য নিয়ে কীভাবে সমস্যা সমাধান করেন, যুক্তি বিশ্লেষণ করেন এবং দলের সঙ্গে কাজ করেন।
নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি সংস্থা Cisco-ও প্রচলিত কোডিং চ্যালেঞ্জের পরিবর্তে প্রকল্পভিত্তিক মূল্যায়নের উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সংস্থার গ্লোবাল ট্যালেন্ট অ্যাকুইজিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কট ম্যাকগাকিন বলেন, AI-নির্ভর কর্মপরিবেশে মানুষের অভিজ্ঞতা, বিচারবোধ এবং তদারকির গুরুত্ব আগের চেয়ে আরও বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, AI শুধু চাকরিপ্রার্থীদের ইন্টারভিউ প্রস্তুতির ধরনই বদলে দেয়নি, বরং নিয়োগকারীদেরও নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। ফলে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে ভার্চুয়াল ইন্টারভিউয়ের পাশাপাশি সামনাসামনি সাক্ষাৎকার এবং বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা পরীক্ষার গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।