সবরমতীর আদলে মহানন্দা রিভারফ্রন্ট, বদলে যাবে শিলিগুড়ির পর্যটনের চেহারা
শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়িকে (Siliguri Tourism) আরও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বড় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মহানন্দা নদীর তীরে সবরমতী রিভারফ্রন্টের আদলে একটি আধুনিক…
শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়িকে (Siliguri Tourism) আরও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বড় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মহানন্দা নদীর তীরে সবরমতী রিভারফ্রন্টের আদলে একটি আধুনিক রিভারফ্রন্ট প্রকল্প তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি নতুন রূপে সাজানো হবে শহরের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র সূর্য সেন পার্ক। সব মিলিয়ে শিলিগুড়ির পর্যটন ও নাগরিক পরিকাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (NGT)-এর সমস্ত পরিবেশগত নির্দেশিকা মেনে চলা হবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, উন্নয়নের পাশাপাশি নদী ও আশপাশের পরিবেশ সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সূত্রের খবর, সূর্য সেন পার্কের পুনর্গঠনের জন্য রাজ্যের পর্যটন দফতরের সঙ্গে যৌথভাবে নিক্কো পার্কের বিশেষজ্ঞরাও মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজে যুক্ত রয়েছেন। লক্ষ্য, পার্কটিকে আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলা।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সূর্য সেন পার্কে দুটি আধুনিক রাইড, একটি ক্যাফেটেরিয়া, শিশুদের জন্য বিশেষ বার্থডে জোন, কেবল কার এবং পাহাড় দেখার জন্য একটি রুফটপ হিল-ভিউ ডেক তৈরি করা হবে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্যও নতুন আকর্ষণ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মহানন্দা রিভারফ্রন্ট প্রকল্পে নদীর ধারে সুন্দরভাবে সাজানো ল্যান্ডস্কেপড পাবলিক স্পেস, হাঁটার জন্য বিশেষ পথ, প্রবীণদের জন্য আরামদায়ক ও নিরাপদ ওয়াকওয়ে, শিশুদের জন্য নিরাপদ খেলার জায়গা এবং উন্নত বিনোদনমূলক পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়া বিভিন্ন পরিকাঠামোকেও এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। ফলে শুধু নতুন সুবিধাই নয়, পুরনো অবকাঠামোরও আধুনিকীকরণ করা হবে।
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, মহানন্দা রিভারফ্রন্ট এবং নতুন রূপে সূর্য সেন পার্ক তৈরি হলে শিলিগুড়ির পর্যটন শিল্প নতুন গতি পাবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, সিকিম কিংবা ডুয়ার্সে যাওয়ার পথে বহু পর্যটক শিলিগুড়িতে সময় কাটাতে আগ্রহী হতে পারেন। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসা, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং পর্যটন-নির্ভর অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিলিগুড়ি শুধু উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবেই নয়, আধুনিক নদীতীরভিত্তিক পর্যটন ও বিনোদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবেও নতুন পরিচিতি পেতে পারে।