রাজনীতিতে ‘সাবালক’ হলেন কিশোর, বাঁকিপুর বিপর্যয় কি বিজেপির বড় ক্ষত?
কোন কোন কারণে প্রশান্ত জয়ী?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন,
১) এই উপনির্বাচনকে প্রশান্ত কিশোর নিজের এবং বিহারের নয়া মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সরাসরি দ্বৈরথ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। গোটা প্রচার পর্ব জুড়ে সম্রাট চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা ফৌজদারি মামলা ও তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন। ‘পলিটিক্যাল ফিগার’ হিসেবে এই লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন প্রশান্ত।
২) শুরু থেকেই এই আসন ছিল সিনহাদের (নীতিন নবীনের পরিবার) পারিবারিক আসন। স্বাভাবিক ভাবেই, একটি প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা জন্ম নেয় মানুষের মধ্যে। স্থানীয় অনুন্নয়নকে হাতিয়ার করে প্রশান্ত কিশোর প্রচার চালিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জিতে আসল আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে।
৩) গ্রাউন্ড রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বিজেপি কায়স্থ ভোট ধরে রাখতে পারলেও অন্যান্য উচ্চবর্ণের মধ্যে তাদের প্রভাব কমেছে। এছাড়া কৌশলগত কারণে আরজেডি-র যাদব ও মুসলিম ভোটারদের একটি বড় অংশও কিশোরের সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলেও খবর। পাশাপাশি দলিত এবং এমবিসি (MBC) ও ইবিসি (EBC) ভোটারদের কাছ থেকেও তিনি উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছেন। সেটাই জয়ের ব্যবধান তৈরি করে দেয়।
৪) বিহারে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রশান্ত কিশোর ‘জন সুরাজ’-কে ‘বিকল্প’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, বাঁকিপুর আসনটি ধরে রাখার বিষয়ে বিজেপির কিছু নেতার আত্মবিশ্বাস ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে।
৫) সম্প্রতি দিল্লিতে হওয়া পড়ুয়াদের আন্দোলনের বিশাল প্রভাব দেখা গিয়েছিল বিহারেও। রাজধানী পাটনার নিকটস্থ এই আসনে সেই আন্দোলনের আঁচ এই নির্বাচনেও পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।