মাতৃত্বের কষ্ট সঙ্গে বাতের ব্যথা, তার পরেও কী ভাবে কমনওয়েলথ-এ স্বপ্নপূরণ সীমার?
প্রসবের পর আবার খেলাধুলায় ফিরে আসা যে কোনও মহিলা অ্যাথলিটের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। ভারতের প্রখ্যাত ডিসকাস থ্রোয়ার সীমা কালিরমনা (Seema Kaliramna)-র জন্য আসল যুদ্ধটি শুরু হয়েছিল মা হওয়ার ঠিক পর থেকেই। ২০২২ সালে ছেলে রুদ্রর জন্মের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ২৭ বছর বয়সি সীমা আক্রান্ত হন আর্থ্রাইটিসে। শরীরের যে সব জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির উপর ভর করে একজন ডিসকাস থ্রোয়ারকে ওই ধাতব জিনিসটি ছুড়তে হয়, ঠিক সেই জায়গাগুলোতেই শুরু হয় অসহ্য যন্ত্রণা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে সাধারণ কাজকর্ম করতেই বেগ পেতে হচ্ছিল। তা সত্ত্বেও ভেঙে পড়েননি সীমা। সেই থেকে টানা চার বছরের অবিশ্বাস্য লড়াই শেষে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬ (Glasgow Commonwealth Games 2026)-এর মঞ্চে ব্রোঞ্জ় জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন ভারতের এই অদম্য কন্যা।
কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ সীমার ডিসকাস থ্রোয়ের পারফরম্যান্স কেমন ছিল?
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমস-এ সীমা ৫৮.৬৫ মিটার দূরত্বে ডিসকাস ছুড়ে ভারতের জন্য ব্রোঞ্জ় পদক জয় করেন।
মাতৃত্বের পর তীব্র বাতের যন্ত্রণা কী ভাবে সামলেছিলেন সীমা?
যেহেতু বাতের সমস্যা একেবারে নিরাময়যোগ্য নয়, তাই তাঁর স্বামী, কোচ রবীন্দ্র কালিরমনা আয়ুর্বেদ এবং খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ পরিবর্তন আনেন। টকজাতীয় খাবার বাদ দিয়ে জয়েন্টের জন্য উপকারী খাবার সীমার ডায়েটে যোগ করে ধীরে ধীরে তাঁর রিহ্যাব ও ওয়ার্কআউট শুরু করা হয়।
এই প্রতিবেদন থেকে যা যা জানবেন
-
শারীরিক বাধা: ২০২২ সালে মাতৃত্বের পর মারাত্মক ইনফ্লেমেটরি বাতের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়া।
-
কোচ ও স্বামীর ভূমিকা: সীমার স্বামী ও প্রাক্তন জাতীয় চ্যাম্পিয়ন রবীন্দ্র কালিরমনা তাঁর কোচের দায়িত্ব নেন এবং আয়ুর্বেদ ও ডায়েটের মাধ্যমে স্ত্রীকে সুস্থ করে তোলেন।
-
একাডেমিক সাফল্য: হরিয়ানার ভিবানিতে অবস্থিত চৌধুরী বংশী লাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শারীরিক শিক্ষায় (Physical Education) PHD ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
-
ছেলের আবদার: স্কটল্যান্ড যাওয়ার আগে তাঁর চার বছরের ছেলে রুদ্রর একটাই আবদার ছিল— ‘মা, একটা মেডেল নিয়ে এসো, ওটাই আমার খেলনা।’
জয়েন্টের অসহ্য যন্ত্রণা থেকে ট্র্যাকে ফেরা
মা হওয়ার পর যেখানে একজন অ্যাথলিটের স্বাভাবিক ফর্মে ফিরতেই ঘাম ছুটে যায়, সেখানে সীমার সঙ্গী হয়েছিল আর্থ্রাইটিস। তাঁর স্বামী ও সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন রবীন্দ্র কালিরমনা জানান, ‘কী করব প্রথমে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। প্রচুর গবেষণা করে আমরা আয়ুর্বেদের সাহায্য নিই, কারণ বাতের সমস্যা পুরোপুরি সারে না, একে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।’ আচার বা লেবুর মতো টক খাবার খাদ্যতালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয় এবং ধীরে ধীরে এক ইঞ্চি করে জিম ও থ্রোয়িং সার্কেল-এ ফিরিয়ে আনা হয় সীমাকে।
শরীরকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া ও রিহ্যাবের পাশাপাশি ভিবানির বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শারীরিক শিক্ষায় করছিলেন সীমা। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিল ‘ভিজুয়ালাইজ়েশন ও ম্যানিফেস্টেশন’ (Visualization & Manifestation)। অর্থাৎ ইতিবাচক এবং নেতিবাচক চিন্তাভাবনা একজন অ্যাথলিটের পারফরম্যান্সে কী প্রভাব ফেলে। নিজের গবেষণার মনস্তাত্ত্বিক তত্ত্বগুলোকেই তিনি ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
FAQ
সীমা কালিরমনা কে এবং তিনি কোন খেলার সঙ্গে যুক্ত?
সীমা কালিরমনা হলেন একজন ভারতীয় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড অ্যাথলিট, যিনি আন্তর্জাতিক স্তরে ডিসকাস থ্রো (Discus Throw) ইভেন্টে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন।
কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬ কোথায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে?
কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬ স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো (Glasgow) শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।