বিদেশি বিনিয়োগ টানতে বড় কর সংস্কার, অফশোর ফান্ডের নিয়মে ছাড়ের প্রস্তাব কেন্দ্রের
নয়াদিল্লি: ভারতকে বিশ্বমানের ফান্ড ম্যানেজমেন্ট হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বড় পদক্ষেপের প্রস্তাব দিল কেন্দ্র সরকার। Taxation and Other Laws (Amendment) Bill, 2026-এ অফশোর বিনিয়োগ তহবিল…
নয়াদিল্লি: ভারতকে বিশ্বমানের ফান্ড ম্যানেজমেন্ট হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বড় পদক্ষেপের প্রস্তাব দিল কেন্দ্র সরকার। Taxation and Other Laws (Amendment) Bill, 2026-এ অফশোর বিনিয়োগ তহবিল (Offshore Funds)-এর জন্য একাধিক কর-সংক্রান্ত শর্ত শিথিল (Tax Reforms) করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের আশা, এই পরিবর্তনের ফলে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম ভারতে স্থানান্তরিত করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।
প্রস্তাবিত বিলটি ইতিমধ্যেই সাংসদদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এটি লোকসভায় পেশ করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে Eligible Investment Fund (EIF) হিসেবে কর ছাড় পেতে অফশোর ফান্ডগুলিকে একাধিক কঠোর শর্ত মানতে হয়। নতুন বিলে সেই শর্তগুলির বেশ কয়েকটি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে অফশোর ফান্ডগুলিকে আর নিচের শর্তগুলি মানতে হবে না:
• ন্যূনতম ২৫ জন বিনিয়োগকারী থাকা বাধ্যতামূলক হবে না।
• কোনও একক বিনিয়োগকারীর অংশীদারিত্ব ১০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নিয়ম তুলে দেওয়া হবে।
• কোনও একটি সংস্থায় মোট তহবিলের ২৫ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করার নিষেধাজ্ঞাও থাকবে না।
• সহযোগী (Associate) সংস্থায় বিনিয়োগের ওপর বর্তমান সীমাবদ্ধতাও শিথিল করা হবে।
• প্রতি মাসে গড়ে ১০০ কোটি টাকার করপাস বজায় রাখার বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
সরকারের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে বিদেশি বিনিয়োগ তহবিলগুলির জন্য ভারতে বসে ফান্ড পরিচালনা করা অনেক সহজ হবে।
বিলে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে International Financial Services Centre (IFSC)-এ পরিচালিত ফান্ডগুলির জন্য আলাদা কর ছাড়ের নিয়ম রয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, IFSC এবং নন-IFSC অফশোর ফান্ডের মধ্যে থাকা এই পার্থক্য তুলে দিয়ে একটি অভিন্ন যোগ্যতার কাঠামো তৈরি করা হবে।
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে ভারতের অনশোর ফান্ড ম্যানেজমেন্ট ইকোসিস্টেম আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।
Nangia Global-এর পার্টনার অভীত সচদেবের মতে, এই পরিবর্তন অফশোর ফান্ডগুলিকে ভারতে ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম স্থানান্তরে উৎসাহিত করবে এবং দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
এই বিলে ৫ জুন জারি করা একটি অধ্যাদেশের (Ordinance) বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওই অধ্যাদেশে Foreign Portfolio Investors (FPI)-দের সরকারি সিকিউরিটিজে (Government Securities বা G-Secs) বিনিয়োগ থেকে পাওয়া সুদের আয় এবং মূলধনী লাভের (Capital Gains) উপর কর ছাড় দেওয়া হয়েছিল।
পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সময় বিদেশি মূলধন আকর্ষণ এবং টাকার (রুপি) ওপর চাপ কমানোর উদ্দেশ্যেই ওই অধ্যাদেশ আনা হয়েছিল। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংক্রান্ত নথিতে সরকার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে (Supply Chain) বিঘ্নের কারণে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত কর-সংক্রান্ত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জুন মাসেই জানিয়েছিলেন, বিদেশি মূলধন ফের ভারতে আনতে সরকার এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) যে পদক্ষেপ নিয়েছে, এটি তার প্রথম ধাপ। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
এই লক্ষ্যেই সরকার Fully Accessible Route (FAR)-এর আওতায় আরও নতুন সরকারি সিকিউরিটিজ অন্তর্ভুক্ত করেছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের নিয়ম সহজ হয়।
এছাড়া RBI Foreign Currency Non-Resident (Bank) [FCNR(B)] আমানতের জন্য বিশেষ Swap Facility-র মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলিকে (PSU) বিদেশ থেকে ঋণ (ECB) তুলতে উৎসাহ দিতে বিশেষ বৈদেশিক মুদ্রা সোয়াপ সুবিধাও চালু করা হয়েছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই সমস্ত পদক্ষেপের ফলে ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোট ৪০.৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিট বিদেশি মূলধন ভারতে এসেছে। একই সঙ্গে ২৪ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার (Forex Reserves) ৬.১১৮ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ৬৮২.৩৫৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
Grant Thornton Bharat-এর পার্টনার রিচা সাওনির মতে, নতুন বিলটি শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে ভারতের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার দিকেও বড় পদক্ষেপ। তাঁর মতে, ফান্ড ম্যানেজমেন্টে উদারীকরণ, ইলেকট্রনিক্স সরবরাহ শৃঙ্খলে উৎসাহ, ডেটা সেন্টার ও হিরে ব্যবসায় সুবিধা এবং সরকারি সিকিউরিটিজে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কর ছাড়ের মতো পদক্ষেপগুলি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে সরকার দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বজুড়ে মূলধন এবং ব্যবসা ভারতে আকর্ষণ করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে।
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের