ত্রিপুরায় ১৫ কোটির উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, কৃষকদের আয় বৃদ্ধির দাবি মন্ত্রীর
আগরতলা: ত্রিপুরার উনাকোটি জেলায় ১৫ কোটিরও বেশি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ (Ratan Lal…
আগরতলা: ত্রিপুরার উনাকোটি জেলায় ১৫ কোটিরও বেশি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ (Ratan Lal Nath)। সোমবার কৈলাসহরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে ত্রিপুরা উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। কৃষি, অবকাঠামো এবং গ্রামীণ উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এদিন উনাকোটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট পাঁচটি উন্নয়নমূলক প্রকল্প উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়, যার মোট ব্যয় ১৫ কোটিরও বেশি।
এর মধ্যে কুমারঘাট কৃষি মহকুমার বেতছড়া গ্রামীণ বাজার (Betchhara Rural Market)-এর উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। ২.২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাজার স্থানীয় কৃষিপণ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া কুমারঘাট ইলেকট্রিক্যাল ডিভিশনের নতুন অফিস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন তিনি। এই প্রকল্পের জন্য ৫.৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
একই দিনে জগন্নাথপুরে সুসঙ্গতা সিড প্রসেসিং সেন্টার (Susangata Seed Processing Centre)-এর উদ্বোধন করা হয়। ১.৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কেন্দ্রের মাধ্যমে উন্নত মানের বীজ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণে সুবিধা হবে বলে প্রশাসনের আশা।
এছাড়া কুমারঘাটে কৃষি (উদ্যানপালন) ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ দফতরের উপ-পরিচালকের নতুন অফিস-এরও উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। এই ভবন নির্মাণে ২.৭৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রতন লাল নাথ রাজ্যের আর্থিক ও কৃষি খাতের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ত্রিপুরার মাথাপিছু আয় (Per Capita Income) ১.৪ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে ১.৯৮ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যে খাদ্যের কোনও ঘাটতি নেই। বর্তমানে ২৪.৭৬ লক্ষ মানুষ প্রতি মাসে প্রতি ব্যক্তি ৫ কেজি করে চাল পাচ্ছেন, যার মাধ্যমে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলিকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
কৃষকদের আয় বৃদ্ধির বিষয়েও একাধিক তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০১৫-১৬ সালে কৃষকদের গড় মাসিক আয় ছিল ৬,৫৮০ টাকা, যা বর্তমানে ১৩,৫৯০ টাকায় পৌঁছেছে।
তিনি জানান, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (MSP) ১.৪০ লক্ষের বেশি কৃষকের কাছ থেকে ২.৭২ লক্ষ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। এর জন্য মোট ৫৪৬.৩৯ কোটি টাকা কৃষকদের প্রদান করা হয়েছে।
কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করেন রতন লাল নাথ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার ৫০,০৮৯টি উন্নত কৃষিযন্ত্র কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেছে। এই প্রকল্পে মোট ২৩৩.৬৩ কোটি টাকার ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, আগের সরকারের আমলে মাত্র ২,৬১১টি কৃষিযন্ত্র বিতরণ করা হয়েছিল এবং সেই সময় ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ২৮.৩৫ কোটি টাকা।
প্রাকৃতিক চাষ (Natural Farming)-এর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে ত্রিপুরায় এই ধরনের চাষ তেমন প্রচলিত ছিল না। বর্তমানে ১৬,৮০০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৪২,০০০ কৃষক প্রাকৃতিক চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
রাজ্য সরকারের মতে, নতুন বাজার, বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, প্রশাসনিক ভবন এবং কৃষি-সহায়ক অবকাঠামো গড়ে ওঠার ফলে উনাকোটি জেলার কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন, বিপণন এবং সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের