কোটি টাকার চেক বাউন্সে মহামেডানের আইনি নোটিশ, মুখ খুললেন হুমায়ুন কবীর
বাবান আদক, কলকাতা: ময়দানে ফের একবার আর্থিক ডামাডোলের মেগা সাসপেন্স! খেলোয়াড়রা প্রস্তুতিতে যখন ব্যস্ত মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের (Mohammedan SC) অন্দরমহলে আছড়ে পড়ল কোটি টাকার চেক…
বাবান আদক, কলকাতা: ময়দানে ফের একবার আর্থিক ডামাডোলের মেগা সাসপেন্স! খেলোয়াড়রা প্রস্তুতিতে যখন ব্যস্ত মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের (Mohammedan SC) অন্দরমহলে আছড়ে পড়ল কোটি টাকার চেক বাউন্স কেলেঙ্কারি। বকেয়া বিপুল অর্থ আদায়ের জন্য হুমায়ুন কবীরকে দু’টি আইনি নোটিশ পাঠাল সাদা কালো শিবির। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ময়দানের ফুটবল মহলে রীতিমতো ভূমিকম্প শুরু হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছে? জানা গিয়েছে, ক্লাবের আইনজীবী ফয়জান মোঃ জাফরের মাধ্যমে ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট’এর ১৩৮ ধারার অধীনে এই কড়া আইনি নোটিশ জারি করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে মোট ১ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের হিসেব। ক্লাবের দাবি, হুমায়ুন কবীরের দেওয়া ৫০ লক্ষ টাকার দু’টি চেক গত ২০ জুলাই ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অ্যাকাউন্টে ‘অপর্যাপ্ত ব্যালেন্স’ থাকার কারণে দু’টি চেকই বাউন্স হয়। মহামেডান ক্লাব কর্তৃপক্ষের কড়া অভিযোগ, এটি নিছক কোনও ব্যাঙ্কিং ত্রুটি নয়, বরং একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আর্থিক অপরাধ।
ক্লাবের পাঠানো আইনি নোটিশে হুমায়ুন কবীরকে চরম সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ মেটাতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত আদালতে আইন অনুযায়ী কড়া দেওয়ানি ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
তবে মহামেডানের এই চরম আইনি পদক্ষেপের মুখে দাঁড়িয়ে এখনই নিজের সব তাস খুলতে নারাজ হুমায়ুন কবীর। তিনি এই পরিস্থিতি নিয়ে একটি স্পষ্ট অথচ রহস্যাবৃত পাল্টা বার্তা দিয়েছেন। তাঁর চাঁছাছোলা বক্তব্য, “লিগ্যাল নোটিস ইস্যুতে এখন কিছু বলবো না আমি। ৯ তারিখ দুপুর ১২টায় ক্লাবে গিয়ে মিটিং করবো, তারপরেই এই বিষয়ে মুখ খুলবো।”
তাঁর এই বয়ানেই স্পষ্ট যে, বিনা যুদ্ধে এখনই তিনি ময়দানের লড়াই থেকে পিছু হটছেন না। আগামী ৯ তারিখ দুপুর ১২টায় রেড রোডের ধারের সাদা কালো তাঁবুতে যে এক রুদ্ধশ্বাস নাটকের মঞ্চ প্রস্তুত হতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কোটি টাকার এই হাই ভোল্টেজ বিতর্কে জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর আপামর কলকাতার ফুটবল মহলের।