ISI বিল নিয়ে বিতর্ক, শিক্ষক-ছাত্রদের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার দাবি
কলকাতা: ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (ISI)-এর প্রস্তাবিত নতুন বিল নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক এবং পড়ুয়ারা। শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক…
কলকাতা: ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (ISI)-এর প্রস্তাবিত নতুন বিল নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক এবং পড়ুয়ারা। শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁরা পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রক (MoSPI)-এর কাছে বিলটি নিয়ে ISI-র অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানান।
শিক্ষকদের অভিযোগ, ISI-র কোনও বৈধ বা সাংবিধানিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা না করেই বিলের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের মতে, বর্তমান বিলে একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে এবং এটি কার্যকর হলে প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বাধীনতা ও শিক্ষকদের সৃজনশীল ভূমিকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এক শিক্ষক বলেন, এই বিল জোর করে কার্যকর করা হলে ISI-কে নিজেদের পরিচালন বিধি ও নিয়ম নতুন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্পূর্ণ বদলাতে হবে। এর ফলে শিক্ষকদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ কমে যাবে এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হবে।
Also Read | পুলিশের পোশাক জাল করে যন্তরমন্তরে নাশকতার ছক! হামিমকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য STF র
অধ্যাপক অরিজিৎ বিষ্ণু বলেন, মন্ত্রক দাবি করছে যে বিলটি চতুর্থ রিভিউ কমিটির (মাশেলকর রিপোর্ট) সুপারিশের ভিত্তিতে তৈরি। কিন্তু সেই রিপোর্টে ISI আইন বাতিলের কোনও সুপারিশ ছিল না। বরং মাত্র দুটি সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং ISI সোসাইটি বাতিলের কথাও বলা হয়নি। তাঁর দাবি, ১৯৫৯ সালের ISI আইনের ৯, ১১ এবং ১২ নম্বর ধারাতেই সরকারের হস্তক্ষেপের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে, ফলে নতুন বিলের প্রয়োজনীয়তা প্রশ্নের মুখে।
অধ্যাপক অয়ন বসু বলেন, নতুন বিলে ‘বিকশিত ভারত’-এর কথা বলা হয়েছে। অথচ দেশের পরিসংখ্যান কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ISI-র ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে (NSSO)-এর ভিত্তি গড়ে তুলতেও ISI গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং ভারতের পরিসংখ্যান ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক স্তরেও আদর্শ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
Also Read | ময়দান মার্কেট সরানোর পথে জট কাটছে! Purple Line মেট্রোর কাজে বড় অগ্রগতি
বিলে ISI-র সদর দফতরের উল্লেখ না থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সহযোগী অধ্যাপক কুন্তল ঘোষ বলেন, ১৯৫৯ সালের আইনে স্পষ্টভাবে কলকাতাকে সদর দফতর হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বর্তমান বিলে সেই বিষয়টি নেই। যদিও ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রকাশিত দ্বিতীয় খসড়ায় কলকাতার নাম ছিল, চূড়ান্ত বিলে তা বাদ পড়েছে। এতে ভবিষ্যতে সদর দফতর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, বিলটি নিয়ে বর্তমান ISI অধিকর্তা অমর্ত্য কুমার দত্তের সঙ্গেও কোনও আলোচনা করেনি MoSPI। তাই দ্রুত শিক্ষক, গবেষক, ছাত্রছাত্রী এবং অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিলটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।