১৫ আগস্ট পর্যন্ত বহুতল নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা, ঝুলে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প
কলকাতা: বহুতল নির্মাণ প্রকল্পে কাজ বন্ধ রাখার সময়সীমা আরও বাড়াল রাজ্য (West Bengal ) সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩১ জুলাইয়ের পরিবর্তে আগামী ১৫…
কলকাতা: বহুতল নির্মাণ প্রকল্পে কাজ বন্ধ রাখার সময়সীমা আরও বাড়াল রাজ্য (West Bengal ) সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩১ জুলাইয়ের পরিবর্তে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হাওড়ার বহুতল নির্মাণ প্রকল্পে স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। এর ফলে প্রায় ৫০০টি প্রকল্প এবং প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে দাবি রিয়েল এস্টেট শিল্পের।
গত ২৬ জুন তারাতলার একটি নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে ১৬ জনের মৃত্যুর পর রাজ্য সরকার সব বহুতল নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে নিরাপত্তা নিরীক্ষার নির্দেশ দেয়। সেই সময় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। প্রথমে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিরীক্ষা শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও, পাঁচ সপ্তাহে প্রযুক্তিগত কমিটি মাত্র ৫০টি প্রকল্প এবং উচ্চপর্যায়ের কমিটি ৩২টি প্রকল্পে ছাড়পত্র দেওয়ায় সময়সীমা বাড়াতে হয়েছে। তবে নির্মাতাদের আশঙ্কা, আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যেও প্রায় ৫০০টি প্রকল্পের নিরীক্ষা শেষ করা কঠিন হবে। ফলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।
Also Read | পুলিশের পোশাক জাল করে যন্তরমন্তরে নাশকতার ছক! হামিমকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য STF র
এদিকে, নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করার অনুমতি দেওয়া উচ্চপর্যায়ের কমিটিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাজেশ কুমার ডিভিসির (DVC) চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তাঁর পরিবর্তে পিডব্লিউডি (PWD) সচিব অন্তরা আচার্য কমিটির নতুন চেয়ারপার্সন হয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদেরও নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্মাতাদের মতে, এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি কিছুটা বাড়তে পারে।
তবে প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। রিয়েল এস্টেট সংস্থাগুলির দাবি, গড়ে প্রতিটি প্রকল্পে প্রায় ২০০টি করে ফ্ল্যাট, অর্থাৎ মোট প্রায় ১০ হাজার আবাসন ইউনিট আটকে রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের গড় মূল্য ১ কোটি টাকা ধরে মোট প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বর্তমানে স্থবির অবস্থায়।
Also Read | এসপ্ল্যানেড খালি করতে ৫২৮ জন ব্যবসায়ীকে নোটিস, কোথায় হচ্ছে পুনর্বাসন?
শিল্পমহলের হিসাব অনুযায়ী, এই আটকে থাকা মূলধনের উপর সুদের খরচই মাসে প্রায় ১০০ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি বহু নির্মাণ শ্রমিক অন্য রাজ্যে কাজের খোঁজে চলে যাচ্ছেন, ফলে কাজ শুরু হলেও তাঁদের ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন নির্মাতারা।