গৌরব অটুট! কমনওয়েলথে ৩৯ পদক নিয়ে ভারতের ঐতিহাসিক অভিযান শেষ
গ্লাসগো: কমনওয়েলথ গেমস (Commonwealth Games) ২০২৬-এ ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ৩৯টি পদক জিতে অভিযান শেষ করেছে ভারত। পদকের সংখ্যা ৫০-এর…
গ্লাসগো: কমনওয়েলথ গেমস (Commonwealth Games) ২০২৬-এ ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ৩৯টি পদক জিতে অভিযান শেষ করেছে ভারত। পদকের সংখ্যা ৫০-এর নিচে নেমে গেলেও এবারের আসরে একাধিক ঐতিহাসিক সাফল্য, নতুন তারকার উত্থান এবং বিভিন্ন খেলায় নজির গড়ে ইতিবাচক বার্তাই দিয়েছে ভারতীয় দল।
২০০২ সালের পর এই প্রথম কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদকসংখ্যা ৫০-এর নিচে থাকল। তবে এবারের আসরে একাধিক পদকসমৃদ্ধ খেলা আয়োজিত হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া থেকে আর্থিক কারণে গেমস গ্লাসগোতে স্থানান্তরিত হওয়ার পর সূচি থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট বাদ পড়ে। ফলে আগের তুলনায় ভারতের পদকসংখ্যা কমবে বলেই ধারণা ছিল।
শেষ দিনে ভারত আর কোনও পদক জিততে না পারলেও পুরো প্রতিযোগিতায় দেশের পারফরম্যান্সে ছিল একাধিক উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত। বিশেষ করে বক্সিং, প্যারা স্পোর্টস এবং জুডোতে ভারতের সাফল্য নজর কেড়েছে।
Also Read |
ভারত এবার মোট ১২২ জন ক্রীড়াবিদ নিয়ে গ্লাসগোয় অংশ নিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৩৮ জন পদক জিতেছেন। অ্যাথলিট গুলবীর সিং একাই দুটি পদক জিতে বিশেষ নজর কেড়েছেন। পদক তালিকায় ভারত শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যেই অভিযান শেষ করেছে।
২০২২ সালে বার্মিংহামে ভারত ৬১টি পদক জিতেছিল। তবে সেই আসরে ভারতের দল ছিল ২১০ সদস্যের। গ্লাসগোতে তুলনামূলক ছোট দল নিয়ে অংশ নিয়েও প্রায় ৩১ শতাংশ ক্রীড়াবিদ পদক জিতেছেন, যেখানে বার্মিংহামে এই হার ছিল ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ, পদকের সংখ্যা কম হলেও সাফল্যের অনুপাত বেড়েছে।
ভারতের হয়ে সবচেয়ে সফল ইভেন্ট ছিল বক্সিং। ভারতীয় বক্সাররা ৭টি সোনা এবং ৩টি রুপো মিলিয়ে মোট ১০টি পদক জিতেছেন। ১৪ জন বক্সারের মধ্যে ১০ জনই পদক জিতেছেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জাইসমিন ল্যাম্বোরিয়া, সাক্ষী চৌধুরী, প্রীতি পাওয়ার, অঙ্কুশ পাংঘাল, সচিন সিওয়াচ, অরুন্ধতী চৌধুরী এবং প্রিয়া ঘাংহাস সোনা জিতেছেন। অন্যদিকে লভলিনা বরগোহাইন, যদুমণি সিং এবং নরেন্দর বেরওয়াল রুপো পেয়েছেন।
Also Read |
অ্যাথলেটিক্সে ভারত জিতেছে ১০টি পদক, যার মধ্যে ৫টি রুপো এবং ৫টি ব্রোঞ্জ। জ্যাভেলিনে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন নীরজ চোপড়া রুপো জিতেছেন। অভিষেক আসরেই যশ বীর সিং ব্রোঞ্জ জিতে পডিয়ামে ওঠেন। চোট নিয়েও তেজস্বিন শঙ্কর ডেকাথলনে পদক জিতে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই কৃতিত্ব গড়েন। দূরপাল্লার দৌড়ে গুলবীর সিং ১০,০০০ মিটারে রুপো এবং ৫,০০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জিতে ইতিহাস তৈরি করেন।
ভারোত্তোলনে ভারত পেয়েছে ৮টি পদক, যার মধ্যে ১টি সোনা, ৬টি রুপো এবং ১টি ব্রোঞ্জ। ভারতের প্রথম পদকও আসে এই খেলাতেই। তারকা ভারোত্তোলক মীরাবাই চানু টানা তিনটি কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতে প্রথম ভারতীয় ভারোত্তোলক হিসেবে অনন্য নজির গড়েছেন।
এছাড়া ঋষিকান্ত সিং, অজয়া বাবু এবং লভপ্রীত সিং স্ন্যাচ বিভাগে কমনওয়েলথ গেমসের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। জ্ঞানেশ্বরী যাদব রুপো জেতার পথে নতুন জাতীয় রেকর্ডও তৈরি করেন। যদিও ডোপিং-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ভারতের ভারোত্তোলন দলের কোটা ১৬ থেকে কমিয়ে ১১ জন করা হয়েছিল।
প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ভারতের ১১ জন ক্রীড়াবিদ ৬টি পদক জিতে দেশের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। তিনটি ইভেন্টে পদক আসে এবং ভারত তিনবার ডাবল পডিয়াম ফিনিশ করে, যার মধ্যে দু’বার ছিল এক-দুই স্থান দখল।
জুডোতে ভারত ইতিহাসের সেরা পারফরম্যান্স করে ৪টি পদক, যার মধ্যে ২টি সোনা, জেতে। অন্যদিকে প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে একমাত্র পদকটি এনে দেন ঝান্ডু কুমার।
তবে সব খেলায় সাফল্য আসেনি। সাঁতার, প্যারা সাঁতার, ট্র্যাক সাইক্লিং, প্যারা ট্র্যাক সাইক্লিং, আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস, বোলস এবং ৩x৩ বাস্কেটবলে ভারত কোনও পদক জিততে পারেনি। বিশেষ করে জিমন্যাস্টিকসে ২০১৪ সালের পর টানা তৃতীয় কমনওয়েলথ গেমসেও ভারত পদকশূন্য থাকল।
সব মিলিয়ে পদকের সংখ্যা আগের আসরের তুলনায় কম হলেও গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের পারফরম্যান্সে উঠে এসেছে একাধিক নতুন মুখ, ঐতিহাসিক সাফল্য এবং ভবিষ্যতের বড় সম্ভাবনার ইঙ্গিত।