Hooghly Viral Poster: নিমন্ত্রণের পরও আসেননি অতিথিরা, ‘শাস্তি’ ৫০০ টাকা জরিমানা! হুগলির পোস্টার ঘিরে হইচই | Hooghly Civic Worker Puts Up Posters Seeking Rs 500 Fine from Guests Who Missed Anniversary
হুগলির ভাইরাল পোস্টারImage Credit: Tv9 Bangla
চুঁচুড়া: বাড়ির বড়রা বলেন, কেউ নিমন্ত্রণ করলে নিমন্ত্রণ রক্ষা করা উচিত। কিন্তু, অনেক সময় সমস্যার কারণে নিমন্ত্রণরক্ষা সম্ভব হয় না। অথচ, এরকম কখনও শুনেছেন যে নিমন্ত্রণরক্ষা না করার জন্য জরিমানা দিতে হয়েছে? অবাক হলেও বাস্তবে তেমনটাই ঘটেছে। হুগলির চুঁচুড়া পুরসভায় একটি পোস্টার ঘিরে হইচই পড়ে গিয়েছে। পোস্টারে লেখা, বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ করার পরেও যাঁরা আসেননি, তাঁদের ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
হুগলি চুঁচুড়া পুরসভার কর্মী সুখেন ঘোষ। পাইপলাইন মিস্ত্রি তিনি। সম্প্রতি, তাঁর বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ছিল। রীতিমতো কার্ড ছাপিয়ে বহু মানুষকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। কিন্তু, তাঁর অভিযোগ, অনেকেই তাঁর অনুষ্ঠানে যাননি। সেই কারণে প্রচুর লোকসান হয়েছে। তাই ৫০০ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। প্রথমে এই বিষয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলেছেন। তারপর পুরসভায় গিয়ে নোটিস দেন। পুরসভা এলাকায় এখন এই জরিমানার পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছে।
পোস্টারে ঠিক কী লেখা রয়েছে?
২৯ জুলাই তাঁদের বিবাহবার্ষিকী ছিল। সেই তারিখ উল্লেখ করে পোস্টারে লেখা হয়েছে, আমন্ত্রণ জানিয়েও অনেকেই অনুষ্ঠানে আসেননি। এতে তাঁকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রত্যেকের জন্য তৈরি খাবারও নষ্ট হয়েছে। তাই প্রত্যেক পরিবারকে ৫০০ টাকা করে দিয়ে আসতে হবে এবং দম্পতিকে আশীর্বাদ করতে হবে।
কী বলছেন নিমন্ত্রিতরা?
পোস্টারকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। আমন্ত্রিতদের একাংশ মজার ছলে বলছেন,”যাওয়া উচিত ছিল, সেটা ঠিক। কিন্তু অনুষ্ঠানের আগে এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সেই কারণে আমরা যাইনি। এখন আবার যদি সত্যিই ৫০০ টাকা চান, তখন কী হবে কে জানে!” পুরসভারই এক কর্মী জানাচ্ছেন, এই ধরনের ঘটনা আগে কোনওদিন ঘটেনি। বিষয়টিকে সচেতনতামূলক বার্তা হিসেবেও দেখছেন তিনি। বলেন, “বহু মানুষকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। কাউকে কার্ড দিয়ে, বা কাউকে মৌখিক। তবে, সেদিন অনেকে যাননি। পারিবারিক কোনও সমস্যা ছিল, সেই কারণে অনেকে হয়তো ভয়ে যাননি। ফলে অনেক খাবার নষ্ট হয়েছিল। পোস্টার দিয়ে মূলত সচেতন করতে চেয়েছেন। হাস্যকৌতুক হলেও এটা সচেতনতামূলক বার্তা।”
রূপঙ্কর দাস নামে এক প্রতিবেশী বলেন, “আমার যাওয়া হয়নি কারণ বাড়িতে অসুস্থ ঠাকুমা ছিলেন। আর সেদিন কেউ ছিল না। পোস্টার তো পড়েছে। এর আগে বাড়িতে এসেও বলেছে যাওনি, তাই ৫০০ টাকা ফাইন হবে। কিন্তু, বিষয়টা খুব একটা গুরুত্ব দিইনি। আজ সকালে শুনছি পৌরসভায় গিয়ে নোটিস দিয়ে এসেছে।”
স্থানীয় সূত্রে দাবি, এলাকার এক ব্যক্তিকে চুল-দাঁড়ি কেটে অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য সুখেনবাবু নাকি ২০০ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও না যাওয়ায় পরে সেই ২০০ টাকাই ফেরত নিয়ে নেন বলে জানা গিয়েছে। পুরসভার এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন,”খুব ভালো মানুষ। হঠাৎ কেন এমন করলেন, বুঝতে পারছি না। আমার কাছেও যদি জরিমানা চাইতে আসেন, তখন দেখা যাবে।”
আপাতত, বিবাহ বার্ষিকীর নিমন্ত্রণপত্র এবং অনুষ্ঠান-পরবর্তী পোস্টারকে ঘিরেই এখন চুঁচুড়া পুরসভা এলাকায় জোর চর্চা চলছে। কেউ একে নিছক রসিকতা বলছেন, কেউ আবার বলছেন, নিমন্ত্রণ রক্ষা না করার আক্ষেপ থেকেই এমন অভিনব প্রতিবাদ। তবে, এই বিষয়ে সুখেনবাবুর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।