ব্যথাও হবে না, জ্বলবেও না! এই ঘরোয়া টোটকায় হাত-পায়ের লোম তুলে ফেলুন | Painless home remedy to remove arm and leg hair naturally - 24 Ghanta Bangla News
Home

ব্যথাও হবে না, জ্বলবেও না! এই ঘরোয়া টোটকায় হাত-পায়ের লোম তুলে ফেলুন | Painless home remedy to remove arm and leg hair naturally

Spread the love

ত্বকের যত্ন ও সৌন্দর্যের নিরিখে হাত-পায়ের অনাকাঙ্ক্ষিত লোম পরিষ্কার করা অত্যন্ত সাধারণ একটি রূপচর্চা। তবে পার্লারে গিয়ে ওয়াক্সিং করার অসহ্য যন্ত্রণা কিংবা ঘন ঘন শেভিংয়ের ফলে ত্বকের ক্ষতি— এই দুই সমস্যাতেই কমবেশি সবাইকে পড়তে হয়। ওয়াক্সিংয়ের সময় যেমন ত্বকে তীব্র জ্বালা ও ব্যথা হয়, তেমনই ক্ষুরের ব্যবহারে ত্বকে, কালো দাগ কিংবা কাটার ভয় থেকে যায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, কোনও ধরনের যন্ত্রণা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া উপাদানে হাত-পায়ের লোম তুলে ফেলা সম্ভব?

বিজ্ঞান ও আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি অতি পরিচিত উপাদান ব্যবহার করেই সহজে এবং ব্যথাহীনভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত লোম দূর করা যায়।

লোম দূর করার জাদুকরী ঘরোয়া প্যাক: বেসন, হলুদ ও গোলাপ জল
প্রাচীনকাল থেকেই রূপচর্চায় বেসন ও হলুদের ব্যবহার অনন্য। এই দু’টির মিশ্রণ কেবল ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় না, বরং ত্বকের রোমকূপের গোড়া শিথিল করে লোম সহজে তুলে আনতেও সাহায্য করে।

প্রয়োজনীয় উপকরণ:
বেসন: ২ টেবিল চামচ

হলুদ গুঁড়ো: ১/২ চা চামচ (ত্বকের দাগ ছোপ দূর করতে ও জীবাণুমুক্ত রাখতে)

দুধ বা টক দই: ১ টেবিল চামচ (ত্বক নরম ও মসৃণ রাখতে)

গোলাপ জল: মিশ্রণটি তৈরি করার মতো পরিমাণমতো

এভাবে তৈরি করুন-

১. একটি পরিষ্কার পাত্রে বেসন, হলুদ গুঁড়ো, কাঁচা দুধ এবং প্রয়োজনমতো গোলাপ জল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন।

২. হাত ও পা পরিষ্কার করে নিয়ে, লোম যেদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে (Hair growth direction), সেদিকে এই ঘন মিশ্রণের একটি পুরু স্তর লাগিয়ে নিন।

৩. পেস্টটি শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন (প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট)। তবে খেয়াল রাখবেন, প্যাকটি যেন একদম শক্ত হয়ে শুকিয়ে না যায়; সামান্য ভেজা ভেজা ভাব থাকতে হবে।

৪. এবার হাত সামান্য জলে ভিজিয়ে নিয়ে, লোমের বৃদ্ধির বিপরীত দিকে (Opposite direction) হালকা হাতে ঘষে ঘষে (Scrubbing) প্যাকটি তুলতে থাকুন।

৫. ঘষার ফলে লোমগুলো গোড়া থেকে আলগা হয়ে উঠে আসবে। এরপর ঠান্ডা জল দিয়ে হাত-পা ধুয়ে ফেলুন এবং একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার মেখে নিন।

ব্যথাহীন প্রক্রিয়া: ওয়াক্সিংয়ের মতো চামড়া টেনে তোলার প্রয়োজন হয় না বলে এতে কোনও ব্যথা অনুভব হয় না। কেমিক্যাল যুক্ত ভিট বা হেয়ার রিমুভাল ক্রিমের মতো এতে ত্বক জ্বালা করে না বা লাল হয়ে যায় না।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি: হলুদ ও বেসন প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে, ফলে ত্বকের মরা কোষ (Dead skin cells) উঠে গিয়ে ত্বক হয়ে ওঠে কোমল ও উজ্জ্বল।

লোমের বৃদ্ধি শ্লথ করা: সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন নিয়মিত এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ধীরে ধীরে লোমের গোড়া দুর্বল হয়ে যায় এবং নতুন করে লোম গজানোর গতি অনেকটাই কমে আসে।

জরুরি টিপস

অত্যন্ত সংবেদনশীল ত্বক হলে ব্যবহারের আগে অবশ্যই হাতের ছোট্ট একটি অংশে প্যাচ টেস্ট (Patch Test) করে নেওয়া ভালো।

ঘষার সময় খুব বেশি গায়ের জোর প্রয়োগ করবেন না, এতে ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিতে পারে।

লোম তোলার পর খোলামেলা রোদে না যাওয়াই শ্রেয় এবং সবসময় ত্বক আর্দ্র রাখতে ময়েশ্চারাইজার বা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *