কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলে লুকিয়ে থাকা স্বপ্নের গ্রাম — ডংজুর ডায়েরি
কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলে ডংজু যেন এক স্বপ্নপুরী। কখনও মনে হয়, প্রকৃতি যেন সিকিমকে একটু বেশিই ভালোবেসেছে। দার্জিলিংকে দিয়েছে সান্দাকফুর তুষারভূমি, আর সিকিমকে উজাড় করে দিয়েছে গুরুদোংমার, ইয়ুমথাং, ছাঙ্গু, এলিফ্যান্ট লেক, সিল্ক রুট, জংরি—একের পর এক বিস্ময়।
মাত্র প্রায় ৭,০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ছোট্ট রাজ্যে বাস করেন প্রায় সাত লক্ষ মানুষ। অথচ প্রতি বছর প্রায় ১৭ লক্ষ পর্যটক এখানে আসেন, যার মধ্যে প্রায় এক লক্ষ বিদেশি। ভারতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য সিকিম পাহাড়ে ঘেরা এক অনন্য ভূখণ্ড, যার তিন দিকে রয়েছে চীন, ভুটান ও নেপালের আন্তর্জাতিক সীমান্ত। পর্যটন ও কৃষিই এখানকার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলাচ উৎপাদক অঞ্চলও এটি। ১৯৭৫ সালে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সিকিম ভারতের অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়।
শীত এলেই পাহাড় যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে। দুর্গাপূজার পর থেকেই মন যেন ব্যাগ গোছাতে শুরু করে। লাচেন ছেড়ে আমাদের গন্তব্য ছিল ডংজু—কেউ বলেন জংগু, কেউ জংজু। মাঙ্গান থেকে প্রায় ২৫–৩০ কিলোমিটার দূরে আপার ও লোয়ার ডংজু নামে দুটি ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম। এখানে প্রবেশের জন্য পারমিট প্রয়োজন, যা সাধারণত হোমস্টে থেকেই করে দেওয়া হয়।
ডংজু উত্তর সিকিমের এমন এক গ্রাম, যেখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়। পাহাড়, নদী, ঝরনা, সবুজ চাষের জমি, অসংখ্য প্রজাপতি আর মুক্ত পাখির কলতানে প্রকৃতি যেন নিজের হাতে এঁকেছে এক অনুপম ক্যানভাস। তিস্তা ও থলুং চু নদীর মিলনভূমিতে গড়ে ওঠা এই গ্রাম হিমালয়ের কোলে ঘুমিয়ে থাকা এক শান্ত স্বপ্ন।