Kunal Ghosh: কুণালের হাতের গিরগিটি কখন রং বদলায়? জানলে চমকে যাবেন! | Does the Green Iguana Change Color Like a Chameleon? Truth Behind the Reptile's Shades - 24 Ghanta Bangla News
Home

Kunal Ghosh: কুণালের হাতের গিরগিটি কখন রং বদলায়? জানলে চমকে যাবেন! | Does the Green Iguana Change Color Like a Chameleon? Truth Behind the Reptile’s Shades

Spread the love

গিরগিটির চরিত্র নিয়ে লিখতে বললে আপনাআপনিই রাজনীতির প্রসঙ্গ চলে আসে, এই প্রাণীর এমনই মহিমা। আর সেই গিরগিটি যদি কালীঘাটপন্থী কুণাল ঘোষের হাতে থাকে, এই মুহূর্তে তার তাৎপর্য যে বহুমাত্রিক এ নিয়েও বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে, বেলেঘাটার বিধায়কের হাতে যে গিরিগিটি দেখছেন, এ কিন্তু সাধারণ গিরগিটি নয়। যখন তখন রং পরিবর্তন করে না। ধীরে ধীরে, পরিস্থিতি বুঝে, সুযোগ বুঝে রং পরিবর্তন করে। আকারে যতই বড়ই হোক না কেন স্বভাবে বেশ ভীতু! তৃতীয় নম্বর চোখ আছে যা দিয়ে আগাম বিপদ বুঝে যায়। আবার বন্ধুত্ব পাতিয়ে আপনার বেডরুমে থাকতেও তাদের অসুবিধা নেই। এই সরীসৃপের নাম ‘ইগুয়ানা’ (Iguana)।

কোথায় থাকে?

ইগুয়ানা বিশেষ প্রজাতির বড় আকারের সরীসৃপ। দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, মেক্সিকো এবং ক্যারেবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের বৃষ্টিঅরণ্য ও ক্রান্তীয় অঞ্চলে দেখা যায়। তবে এক্সোটিক বা বিদেশি পোষ্য হিসেবে এই মুহূর্তে ইগুয়ানার বিশাল চাহিদা তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। বহু ধনী ও শৌখিন মানুষ আজকাল কুকুর-বিড়াল ছেড়ে বেছে নিচ্ছেন এই ইগুয়ানা সরীসৃপকে।

কী খায়?

এমনিতে সাত্ত্বিক। গাছে থাকে। পাতা, ফুল, ফল খায়। চোখে মুখে রাগ দেখালেও মোটের উপর ভীতু। যদি ঠিকঠাক ট্রেনিং দেওয়া যায় তাহলে পোষ মানে। এরা আকারে প্রায় ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং ওজন পৌঁছাতে পারে ৫ থেকে ৮ কেজিতে।

রং কখন বদলায়?

ক্যালিওটিস বা ক্যামেলিয়নের মতো চটজলদি বা সেকেন্ডের মধ্যে রং বদলায় না ইগুয়ানা! গিরগিটি যেমন শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে বা আশেপাশের গাছপালার সঙ্গে মিশে যেতে মুহূর্তে নিজের রং বদলে ফেলে, ইগুয়ানার রং বদলানোর প্রক্রিয়াটা কিন্তু বেশ আলাদা এবং ধীরগতির। বাস্তবে ইগুয়ানার গায়ের রং বদলানোর পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করে— মুড, তাপমাত্রা এবং বয়স বা প্রজনন ঋতু।

‘তৃতীয় চোখ’?

সাধারণ গিরগিটির মতো এদেরও ‘প্যারিয়েটাল আই’ (Parietal eye) থাকে। এই চোখের কাজ দেখা নয়, অনুমান করা। আগাম বিপদ বোঝা। মাথার এই বিশেষ অঙ্গটি আলো-ছায়ার পরিবর্তন টের পেতে এবং ওপর থেকে বাজপাখি বা অন্য শিকারি পাখির আক্রমণ বুঝতে দারুণ সাহায্য করে। তাছাড়া আত্মরক্ষায় এদের জুড়ি মেলা ভার। কোনও শত্রু পিছু নিলে বা বিপদের গন্ধ পেলে এরা নিজেদের চাবুকের মতো শক্ত ও ধারালো লেজ সজোরে আছড়ে আঘাত করতে পারে। এমনকি শিকারির হাত থেকে বাঁচতে টিকটিকির মতো এরাও লেজ খসিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম, যা পরে আবার নতুন করে গজায়!

জল এবং গাছে এদের দক্ষতাও বিস্ময়কর। এরা দুর্দান্ত সাঁতারু এবং গাছের ওপরের ডাল থেকে প্রায় ৪০-৫০ ফুট নিচে লাফিয়ে পড়লেও কোনও ক্ষতি ছাড়াই দিব্যি বেঁচেবর্তে থাকে। স্বাভাবিক পরিবেশে এদের গড় আয়ু ১২ থেকে ১৫ বছর হলেও সঠিক দেখভালে এরা ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।

বাড়িতে পুষতে চান?

ভারতে যেকোনও বিদেশি প্রাণী পোষার ক্ষেত্রে কিছু কড়া সরকারি নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রকের ‘PARIVESH’ পোর্টালে এই ধরনের এক্সোটিক পেটের সঠিক রেজিস্ট্রেশন ও তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক। সামান্য উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া পছন্দ করা এই প্রাণীটি কিন্তু একবার মানিয়ে নিলে দিব্যি আপনার কোল আলো করে বসে থাকবে, ঠিক যেমনটা দেখা গিয়েছে কুণাল ঘোষের ছবিতে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *