পাড়ায় সমাধান: সোশ্যাল অডিট দাবি ঠিকাদারদের
এই সময়, পুরুলিয়া: তৃণমূল জমানায় চালু হওয়া ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পে হওয়া উন্নয়নমূলক কাজগুলির কোনও দায়ভার রাজ্য সরকার নেবে না-সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তরফে এমন ঘোষণা সামনে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরুলিয়া জেলাজুড়ে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর একদিকে যেমন ক্ষোভে ফুঁসছেন কাজের বরাত পাওয়া ঠিকাদাররা।
উল্লেখ্য, গত বছর অগস্ট মাসের শুরুতে তৎকালীন তৃণমূল সরকার বুথ প্রতি ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দে এই প্রকল্পটি চালু করেছিল। গ্রামীণ ও পুর এলাকায় নলকূপ বসানো, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সংস্কার, পুকুরঘাট, শ্মশানের ছাউনি, কালভার্ট, ঢালাই রাস্তা ও পথবাতি বসানোর মতো কাজ এই প্রকল্পের অধীনে হাতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুরু থেকেই পুরুলিয়ার একাধিক এলাকায় কাজের মান নিয়ে অভিযোগ উঠছিল।
যেমন, কাশীপুর পঞ্চায়েতের কাশীপুর বাজারে এই প্রকল্পে পথবাতি বসানো হলেও স্থানীয় বিজেপি মণ্ডল সভাপতি দেবাশিস মাহাতোর দাবি, এক বছর না ঘুরতেই তার সিংহভাগ বাতি অকেজো হয়ে এলাকা অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। মানবাজার-২ ব্লকের রঘুনাথপুর গ্রামে তৈরি কংক্রিটের রাস্তায় কিছুদিন পরেই ফাটল ধরেছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা অশ্বিনী মাহাতো। অন্য দিকে, পুরুলিয়া শহরে একটি কমিউনিটি হলের কাজ মাটি খোঁড়ার পরেই থমকে যাওয়ায় হতাশ স্থানীয় মানুষ।
বিষয়টি নিয়ে রাজ্যকে নিশানা করে বিজেপির রাজ্য কমিটির নেতা বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, ‘ভোটের কথা মাথায় রেখে বুথ পিছু ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু অধিকাংশ কাজের টাকা কাটমানিতেই চলে গিয়েছে। সে কারণেই কাজের মান অত্যন্ত খারাপ হয়েছে এবং আজ সরকার দায়িত্ব এড়াতে বাধ্য হচ্ছে।’ যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক নেতা জানান, মানুষের দাবি মতোই সব কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল, বাকিটা প্রশাসন বলতে পারবে।
সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন কাজের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদাররা। এক ঠিকাদার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘আগের সরকারের সঙ্গে এই সরকারের রাজনৈতিক লড়াই থাকতে পারে, কিন্তু আমরা সরকারি ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েই কাজ করেছি। প্রয়োজন হলে সরকার সরজমিনে খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ কমিটি বা সোশ্যাল অডিট করাক। কাজের মান ও ভুয়ো বিলের অভিযোগ খতিয়ে দেখে সত্যতা যাচাই করা হোক, কিন্তু কাজ করে আমরা টাকা পাব না কেন?’
যদিও এই নির্দেশিকা প্রসঙ্গে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। একাধিক ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক কোনও লিখিত সরকারি নির্দেশ এখনও তাদের হাতে আসেনি।