কুড়মালি ভাষায় ‘শকুন্তলা’, ‘বর্ণ পরিচয়’, ‘বন্দেমাতরম’-ও
এই অনুবাদ কুড়মিদের শিক্ষা ব্যবস্থার অঙ্গ হয়ে উঠবে তো?
তবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সমীর কর্মকার মনে করছেন, ‘মূলস্রোতে আসাটা কিন্তু শুধু নেওয়ার মধ্যে দিয়ে হবে না। দিতেও হবে। যেমন বাংলা। ইংরেজি সাহিত্য যেমন এই ভাষায় অনুবাদ হয়েছে, তেমনই বাংলা ভাষার সাহিত্যও ইংরেজিতে অনুবাদ হয়েছে। একই ভাবে, কুড়মালি ভাষাকেও যদি বাংলার সমমর্যাদা পেতে হয় বা তার কাছাকাছি জায়গাতেও পৌঁছতে হয়, তা হলে কিন্তু আদানপ্রদান হওয়াটা জরুরি। অর্থাৎ, বাংলাতেও যেন কুড়মালি ভাষার সাহিত্য অনুদিত হয়।’ পাশাপাশি সমীরের মতে, ভাষা নিয়ে যা-ই কাজ হয়ে থাকুক না কেন, তা যেন কুড়মিদের যাপনের অঙ্গ হয়ে ওঠে। শকুন্তলার অনুবাদ স্কুল-কলেজে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। একই সঙ্গে তা যেন একেবারে প্রত্যন্ত এলাকার ছেলেমেয়েদের কাছে পৌঁছয়, সেটাও দেখতে হবে। সঙ্গে দেখতে হবে, ওই স্কুল-কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন কি না। তা না হলে কুড়মালি ভাষার গতি লুপ্ত হয়ে যাওয়া বহু ভাষার গতির মতোই হবে।
‘বন্দে মাতরম’ অনুবাদের ডিজিটাইজ়েশন নিয়েও সমীর বলেন, ‘শুধুমাত্র সংরক্ষণের কথা ভাবলে চলবে না, এতে ভাষার ক্ষমতায়ন হচ্ছে কি না, সেটাও দেখতে হবে। এই ধরনের কাজের সুফল জনগোষ্ঠীর একেবারে নীচের স্তর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারলেই তা একমাত্র সম্ভব। কিন্তু এটা বাস্তব যে, ভাষাসাহিত্যে ডিজিটাইজ়েশনের সুফল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ পেয়ে থাকেন। এ সব এখনও অধিকাংশ মানুষেরই হাতের নাগালের বাইরে। তাঁরা জানেনই না, কোথা থেকে এ রকম অডিয়ো-ভিডিয়ো পাওয়া যাবে। আসলে লেখাপড়া একা একা এ ভাবে হয় না। লেখাপড়ার জন্য মানুষের স্পর্শ দরকার হয়। দরকার হয় উষ্ণতা। তা একমাত্র শিক্ষকেরাই দিতে পারেন। তাই আগে সেই ব্যবস্থাটা নিশ্চিত করা জরুরি। তা হলেই ডিজিটাইজ়েশনের সুবিধা পাবে গোটা জনগোষ্ঠীর মানুষ।’
ইন্দ্রনীলও চাইছেন, এই জাতীয় অনুবাদ গ্রন্থ বা অনুদিত গান যাতে ভবিষ্যতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি বলেন, ‘মাতৃভাষাতে যে কোনও বিষয় পড়ার স্বাদ একটু আলাদা। তা ছাড়া, মাতৃভাষায় কোনও বিষয় সহজে বোঝা ও মনেও রাখা যায়। তাই জাতীয় শিক্ষা নীতিতেও মাতৃভাষার শিক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইংরেজি এবং হিন্দিতেও অনুবাদের কাজ চলছে।’