Railways Training: মুর্শিদাবাদ দুর্ঘটনার পর বড় সিদ্ধান্ত! হাতে-কলমে সিগন্যাল-লেভেল ক্রসিং গেট চালানো শিখবেন গেটম্যানরা | After Murshidabad Accident, Railways to Give Hands on Training to Gatekeepers on Signal and Level Crossing Operations
গেটম্যানদের দেওয়া হবে প্রশিক্ষণ।Image Credit: TV9 বাংলা
কলকাতা: মুর্শিদাবাদের ঘটনা থেকে শিক্ষা। এবার ট্রেন পরিচালনায় আরও দক্ষ কর্মী গড়তে বড় উদ্যোগ রেলের। বেলেঘাটায় রেলের ‘উৎকর্ষ কেন্দ্রে’ গেটম্যানদের প্রশিক্ষণের জন্য তৈরি করা হল কৃত্রিম সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা – লেভেল ক্রসিং গেট।
গত ১৭ জুলাই মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আজিমগঞ্জ-কাটোয়া শাখায় কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর রেলগেটের মাঝে গেটম্যানের ভুলে খোলা লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল ট্রেন ধাক্কা মারে একটি স্কুল পুলকারে। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চার স্কুলপড়ুয়া ও গাড়ির চালকসহ মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়।
এই দুর্ঘটনায় ক্রসিং গেটের গেটম্যানের বিরুদ্ধে কাজে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল।
যে অভিযোগ ওই গেটম্যানের বিরুদ্ধে রয়েছে, তা ডিভিশনের অন্যান্য ক্রসিং গেটের গেটম্যানের বিরুদ্ধেও থাকতে পারে বলে আশঙ্কিত পূর্ব রেলের কর্তারা। তাই যাত্রী সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে এবার গেটম্যান এবং রেল যাত্রীদের সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত রেল কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র ক্লাসরুমে বসে নয়, হাতে-কলমে সেই প্রশিক্ষণ শুরু করল শিয়ালদহ ডিভিশন।
শিয়ালদহ ডিভিশনের পূর্ব রেলের মধ্যে প্রথম কলকাতার বেলেঘাটায় চালু হয়েছে ডিভিশনের প্রথম মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি ডিভিশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে ক্রসিং গেট। থাকছে সিগন্যালিং সিস্টেম। একটি ক্রসিং গেটে যে যে আধুনিক পরিকাঠামো থাকে, তার সবই রাখা হয়েছে এই কৃত্রিমভাবে তৈরি সিগন্যালিং গেটের সামনে।
জানা গিয়েছে, সিগন্যালিং গেট দুই রকম রাখা হয়েছে। একটি স্লাইডিং ব্যারিয়ার। অন্যটি চেনা পরিচিত উপর থেকে নীচের দিকে যাওয়ার গেট অর্থাৎ রুম ব্যারিয়ার। লেভেল ক্রসিং পরিচালনার বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে।
শিয়ালদহ ডিভিশন সূত্রে খবর, এতদিন পর্যন্ত ট্রেনিং এর অঙ্গ হিসেবে শুধুমাত্র ক্লাসরুমে প্রশিক্ষণ নিয়ে গেটম্যানদের পাঠিয়ে দেওয়া হত লেভেল ক্রসিং-গুলিতে। কিন্তু মুর্শিদাবাদের ঘটনা টনক নড়িয়ে দেয় পূর্ব রেলের কর্তাদের। এরপরই সিদ্ধান্ত হয় শুধু ক্লাসরুমে নয়, কৃত্রিমভাবে লেভেল ক্রসিং গেট তৈরি করে, সেখানে ট্রেন চলাফেরার মধ্যে দিয়ে এই সিগন্যালিং গেটগুলিকে নিয়ে ট্রেনিং প্রশিক্ষণ করানো হবে।
এখানেই শেষ নয়, ট্রেনের রিয়েল-টাইম তথ্য পর্যবেক্ষণ, যাত্রী তথ্য ও অডিয়ো-ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে এই উন্নত প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি, সেটি হল বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় মডেল রুমে সিমুলেশন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। রেল লাইনের ট্র্যাক থেকে ফিসপ্লেট-সবকিছুই এই আধুনিক কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
রেল যাত্রীদের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত যে যে যন্ত্র ব্যবহার হয়, তার প্রতিটি অংশই এখানে ট্রেনিং এর জন্য রাখা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে একটি ক্রসিং লেভেল গেটের মডেল। একজন গেটম্যানের কী কাজ, রেল যে মেশিনের মাধ্যমে দায়িত্ব সম্পাদন করবে, তা এই ইঞ্জিনিয়ারিং মডেল নামক ঘরেই রাখা রয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তি ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে দক্ষ রেলকর্মী তৈরি হলে, ট্রেন পরিচালনা আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হবে বলেই দাবি শিয়ালদহ ডিভিশনের কর্তাদের।