জোড়া ঝড়ের গুঞ্জন উড়িয়ে আবহাওয়ার আসল রহস্য ফাঁস করল ইসরো
নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে চলা অবিরাম বর্ষণ দেখে মনে হতে পারে একসঙ্গে বুঝি একাধিক শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় আছড়ে পড়েছে। তবে সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা…
নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে চলা অবিরাম বর্ষণ দেখে মনে হতে পারে একসঙ্গে বুঝি একাধিক শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় আছড়ে পড়েছে। তবে সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) এবং আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) যৌথ ট্র্যাকিং রিপোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এটি কোনো জোড়া ঝড় বা সামুদ্রিক তাণ্ডব নয়, বরং একটিমাত্র আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে ঘটে চলা স্বাভাবিক বর্ষণ।
বর্তমানে ঝিমিয়ে পড়া গতিতে, ঘণ্টায় মাত্র ১২ কিলোমিটার বেগে স্থলভাগের অনেক গভীরে এগিয়ে চলেছে এই নিম্নচাপটি। এর জেরে বঙ্গোপসাগর বা আরব সাগর, কোনো অঞ্চলেই বর্তমানে ঝড়ের মতো কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতির অস্তিত্ব নেই।
ইসরোর তৈরি এবং আবহাওয়া দফতরের পরিচালিত আবহাওয়া উপগ্রহ ‘ইনস্যাট-৩ডিআর’ (INSAT-3DR)-এর ইনফ্রারেড ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবিতে ধরা পড়েছে আবহাওয়ার চালচিত্র। এই স্যাটেলাইট দৃশ্যমান আলোর বদলে মূলত তাপমাত্রা মাপে। ছবিতে মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও কম তাপমাত্রার মেঘের উপরিভাগ সাদা ও হালকা গোলাপি রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা তীব্র বজ্রগর্ভ মেঘের উপস্থিতি প্রমাণ করে। বর্তমান চিত্রে দেখা যাচ্ছে, মূল নিম্নচাপটির ‘বৃষ্টির ইঞ্জিন’ বঙ্গোপসাগর থেকে বহু দূরে ছত্তিশগড়, ওড়িশা এবং মধ্যপ্রদেশ অঞ্চলের ওপর অবস্থান করছে। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে আরব সাগরের কাছাকাছি যে দ্বিতীয় মেঘের জটলা দেখা যাচ্ছে, তা নতুন কোনো সমুদ্রঝড় নয়। মূল সিস্টেমটিই আরব সাগর থেকে আর্দ্রতা টেনে এনে পশ্চিমঘাট পর্বতের গায়ে ধাক্কা দিয়ে (Orographic lift) এই বৃষ্টি তৈরি করছে।
কোথায় অবস্থান করছে নিম্নচাপটি?
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে জন্ম নেওয়া গভীর নিম্নচাপ বা ‘ডিপ ডিপ্রেশন’টি বর্তমানে স্থলভাগে প্রবেশ করে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। এর গতিবেগ অত্যন্ত শ্লথ, ঘণ্টায় মোটে ১২ কিলোমিটার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার নিম্নচাপ কখনোই ঝড়ের গতিতে ছোটে না। বরং এই মন্থর গতিই নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে দীর্ঘক্ষণ ধরে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ও বৃষ্টিপাত ঘটানোর সুযোগ করে দেয়।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে যেখানে মাত্র কয়েক দিন আগে এই সিস্টেমের জন্ম হয়েছিল, সেই উত্তর অংশ এখন সম্পূর্ণ শান্ত। সেখানে কোনো ঘূর্ণায়মান বা ঘনীভূত নিম্নচাপের অস্তিত্ব নেই, কেবল বিক্ষিপ্ত কিছু মেঘের টুকরো ছড়িয়ে রয়েছে।
একইভাবে, আরব সাগরের মধ্য ও উত্তর অংশও আপাতত পরিষ্কার। পশ্চিম উপকূলে যে বৃষ্টি হচ্ছে, তা মূল সিস্টেমের টানে বয়ে চলা আর্দ্র বায়ুর ফল। পূর্ব-মধ্য আরব সাগরে অতীতে তৈরি হওয়া দুর্বল ঘূর্ণাবর্তটিও ক্রমশ শক্তি হারিয়ে মিলিয়ে গেছে।
আগামী দিনে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি কেমন থাকবে?
আবহাওয়াবিদদের মতে, স্থলভাগের গভীরে গিয়ে এই নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। ফলে বৃষ্টির তীব্রতাও কিছুটা কমবে। তবে এটি যে বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা দেশের অভ্যন্তরে টেনে এনেছে, তার প্রভাবে আগামী বেশ কিছুদিন দেশের বড় একটা অংশে আকাশ মেঘলা ও ঝিরঝিরে থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত চলবে। যেহেতু সাগরে নতুন করে কোনো ঘূর্ণাবর্ত বা সিস্টেম দানা বাঁধছে না, তাই বর্তমান ঝোলাঝুলি আবহাওয়ার পর সাময়িক স্বস্তি মিলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সতর্কবার্তা
বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলে মৎস্যজীবীদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বজ্রপাতের সময় পাকা ঘরের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লাগাতার বৃষ্টির জেরে যে সমস্ত এলাকায় মাটি আলগা হয়ে গেছে, সেখানে স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া বন্যা ও ধস সংক্রান্ত সতর্কতার ওপর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখনও মুক্তি পায়নি আন্দোলনকারীরা! ফের পথে নামার হুঁশিয়ারি আরশোলা সৌরভের