টানা কাজে ক্লান্ত? প্রতি ঘণ্টায় ৫ মিনিটের বিরতিই বাড়াতে পারে কর্মক্ষমতা - 24 Ghanta Bangla News
Home

টানা কাজে ক্লান্ত? প্রতি ঘণ্টায় ৫ মিনিটের বিরতিই বাড়াতে পারে কর্মক্ষমতা

Spread the love

অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: কাজের ফাঁকে মাত্র পাঁচ মিনিটের বিরতি! শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এই ছোট্ট অভ্যাসই (Health Tips) দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মস্তিষ্ককে…

অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: কাজের ফাঁকে মাত্র পাঁচ মিনিটের বিরতি! শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এই ছোট্ট অভ্যাসই (Health Tips) দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। বর্তমান সময়ে অফিস, পড়াশোনা কিংবা বাড়ি থেকে কাজ, সব ক্ষেত্রেই মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইলের স্ক্রিনের সামনে কাটাচ্ছেন। কাজের চাপ, ডেডলাইন এবং একের পর এক অনলাইন মিটিংয়ের কারণে অনেকেই বিরতি নেওয়াকে সময় নষ্ট বলে মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে নিয়মিত ছোট বিরতি উৎপাদনশীলতা বাড়াতেই সাহায্য করে।

মনোবিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক দীর্ঘ সময় একই কাজে সমানভাবে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। সাধারণত ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট পর মনোযোগ কমতে শুরু করে। সেই সময়ও একটানা কাজ চালিয়ে গেলে ভুলের সম্ভাবনা বাড়ে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায় এবং মানসিক ক্লান্তি দ্রুত গ্রাস করে। তাই প্রতি ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ মিনিটের বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Also Read | মহাকাল মডেলে গড়ে উঠবে গঙ্গাসাগর? কেন্দ্রের কাছে সহায়তা চাইল ‍‘শুভ-হিন্দু’ সরকার

শুধু মানসিক নয়, শারীরিক সমস্যাও বাড়ছে দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ করার ফলে। ঘাড় ও কোমরে ব্যথা, কাঁধ শক্ত হয়ে যাওয়া, কবজিতে অস্বস্তি এবং চোখে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা এখন খুবই সাধারণ।  চিকিৎসকদের মতে, বিরতির সময় কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করা, হালকা স্ট্রেচিং করা কিংবা জানালার বাইরে তাকিয়ে চোখকে বিশ্রাম দিলে শরীরে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং পেশির চাপ কমে।

স্ক্রিনের সামনে দীর্ঘক্ষণ থাকার কারণে ডিজিটাল আই স্ট্রেন-এর সমস্যাও দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা এবং চোখে জ্বালাভাব হতে পারে। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা ‘২০-২০-২০’ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট অন্তর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনও বস্তুর দিকে তাকালে চোখের চাপ অনেকটাই কমে।

Also Read | একই পটলের তরকারিতে বিরক্ত? বাড়িতেই সহজে বানান সুস্বাদু পনিরের দোলমা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরতি মানেই সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করা নয়। বরং ওই সময়ে এক গ্লাস জল পান করা, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, কিছুটা হাঁটা, সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা অথবা কয়েক মিনিট প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকা মানসিক চাপ কমাতে অনেক বেশি কার্যকর।

অনেক কর্মী কাজের চাপে দুপুরের খাবারও এড়িয়ে যান। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়, ফলে ক্লান্তি, বিরক্তি এবং মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়। তাই নির্দিষ্ট সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত জল পান করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে বিশ্বের বহু কর্পোরেট সংস্থা কর্মীদের মানসিক সুস্থতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নির্দিষ্ট বিরতির সময়, ওয়েলনেস প্রোগ্রাম, মেডিটেশন সেশন এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এখন অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। কারণ সুস্থ কর্মীই একটি প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

Also Read | ঘড়ির বিজ্ঞাপনে প্রায় সবসময়ই ১০:১০ কেন দেখানো হয়? কারণ জানলে অবাক হবেন

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বিশ্রাম কোনও বিলাসিতা নয়, বরং কর্মক্ষমতা ধরে রাখার অন্যতম শর্ত। তাই টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করার বদলে নিয়মিত ছোট বিরতি, পর্যাপ্ত জল পান, পুষ্টিকর খাবার, হালকা শরীরচর্চা এবং স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে রাখার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মস্তিষ্ক, দুটিকেই সুস্থ রাখে।  স্মার্টভাবে কাজ করতে চাইলে বিরতিকে অভ্যাসে পরিণত করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *