ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু পিএইচডি গবেষকের, দুর্ঘটনা না গাফিলতি? ক্ষোভে ফুঁসছে পড়ুয়ারা
চণ্ডীগড়ের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় (Panjab University) ক্যাম্পাসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক পিএইচডি গবেষক। মৃতের নাম জ্যোতি (২৮)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের পিএইচডি গবেষক ছিলেন। হরিয়ানার মহেন্দ্রগড় রেওয়াড়ি জেলার বাসিন্দা ছিলেন তিনি।
জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত চলছে পাঞ্জাবে। সেই কারণে জলমগ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের বিস্তীর্ণ অংশ। মঙ্গলবার সকালে হস্টেল থেকে ক্লাসে যাওয়ার পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন জ্যোতি। জলমগ্ন রাস্তায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। সহপাঠীরা তাঁকে দ্রুত নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শতাধিক পড়ুয়া উপাচার্যের (Vice-Chancellor) দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখান এবং পরে ব্যারিকেড ভেঙে অফিস চত্বরে ঢুকে পড়েন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, টানা বৃষ্টির জেরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি কাঁচা রাস্তায় জল জমে গিয়েছিল। জল জমার কারণে বৈদ্যুতিক জাংশন বক্স জলে ডুবে যায়। এর ফলে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুতের লাইন থেকে বিদ্যুৎ ওই জমা জলে ছড়িয়ে পড়ে। ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়ে জ্যোতি বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
জ্যোতির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। পড়ুয়াদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাম্পাসে জল জমা, খোলা বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং ভগ্ন পরিকাঠামো নিয়ে কর্তৃপক্ষকে বারবার সতর্ক করা হলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা উপাচার্যের দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, নিহত গবেষকের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং ক্যাম্পাসের বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অডিটের দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে উপাচার্যের দপ্তরে ঢুকে পড়েন।
পড়ুয়াদের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির ফল। তাঁদের অভিযোগ, বর্ষার সময়ে ওই এলাকায় প্রায়ই জল জমে থাকে এবং বিদ্যুতের সংযোগ নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান করা হয়নি। তাই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রুখতে অবিলম্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কী ভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ওই গবেষকের মৃত্যু হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের বৈদ্যুতিক সংযোগ ও পরিকাঠামোও পরীক্ষা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই ঘটনায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ এখনও প্রশমিত হয়নি।