আধার যাচাইয়ে চাপে CAB, অনিশ্চয়তায় শতাধিক স্থানীয় ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ - 24 Ghanta Bangla News
Home

আধার যাচাইয়ে চাপে CAB, অনিশ্চয়তায় শতাধিক স্থানীয় ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ

Spread the love

স্থানীয় ক্রিকেটে নতুন মরসুমের দলবদল শুরু হতে এখনও প্রায় এক মাস বাকি। কিন্তু তার আগেই নজিরবিহীন সমস্যার মুখে পড়েছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (CAB) এবং…

স্থানীয় ক্রিকেটে নতুন মরসুমের দলবদল শুরু হতে এখনও প্রায় এক মাস বাকি। কিন্তু তার আগেই নজিরবিহীন সমস্যার মুখে পড়েছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (CAB) এবং রাজ্যের বিভিন্ন ক্লাব। কারণ, এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয় কোন ক্রিকেটারকে স্থানীয় বা বাংলার ক্রিকেটার হিসেবে ধরা হবে এবং কারা সেই তালিকার বাইরে চলে যেতে পারেন।

ফলে ক্লাবগুলিও নিশ্চিত হতে পারছে না, কাদের সঙ্গে তারা নতুন মরসুমের জন্য চুক্তি করতে পারবে। এই জটিলতার মূল কারণ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নতুন নির্দেশিকা। এ বছর থেকে ক্রিকেটারদের আধার সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অনেক বেশি কঠোর হয়েছে বোর্ড। প্রত্যেক ক্রিকেটারের আধারের আপডেট ইতিহাস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জন্মতারিখ এবং স্থায়ী বাসস্থানের তথ্য নিয়ে কোনও অসঙ্গতি বা সংশয় রয়েছে কি না, তা যাচাই করছে সিএবি।

এই প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক ক্রিকেটার প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। সিএবি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ জন ক্রিকেটারের নথিতে বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি বা অসম্পূর্ণতা ধরা পড়েছে। ফলে তাঁরা আপাতত সংশয় তালিকায় রয়েছেন। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হলে ভবিষ্যতে তাঁদের বাংলার হয়ে স্থানীয় ক্রিকেটে খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।সিএবি জানিয়েছে, আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে সমস্ত নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরপর যাঁদের নথি সম্পূর্ণ এবং নিয়ম অনুযায়ী বৈধ বলে বিবেচিত হবে, তাঁদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে কতজন ক্রিকেটার শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পাবেন এবং কতজন বাদ পড়বেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলা দলের কয়েকজন পরিচিত ক্রিকেটারের নাম। ভারতের হয়ে খেলা মুকেশ কুমার, আকাশ দীপ এবং শাহবাজ আহমেদ জন্মসূত্রে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা নন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা বাংলার হয়ে খেলেছেন এবং রাজ্যের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রথম দফায় যেসব সিনিয়র ক্রিকেটারের কাছে অতিরিক্ত নথি ও ডিজিটাল জন্মসনদের মতো কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিল, সেখানে এই তিন ক্রিকেটারের নাম ছিল না। বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হলেও পরে সিএবি জানায়, নথি জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল এবং ওই তিন ক্রিকেটারই পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন। মুকেশ কুমার ও আকাশ দীপকে ঘিরে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে।

বর্তমানে তাঁরা বিহার পুলিশের ডিএসপি পদে কর্মরত। এতে ভবিষ্যতে তাঁদের বাংলার হয়ে খেলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যদিও সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই দুই ক্রিকেটার বাংলার হয়েই খেলবেন। তাঁর মতে, অতীতেও রেল বা অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ক্রিকেটাররা বাংলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়া গেলে মুকেশ ও আকাশের ক্ষেত্রেও কোনও সমস্যা হবে না।

তবে এই গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিএবির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেকের মতে, যদি এই ধরনের নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আগে থেকেই চালু থেকে থাকে, তাহলে গত কয়েক বছরে তা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হয়নি কেন? বোর্ডের নির্দেশ পাওয়ার পরই কেন এত বড় পরিসরে যাচাই শুরু হল, সেই প্রশ্নও উঠছে ক্রিকেট মহলে। সমালোচকদের মতে, নিয়মিতভাবে নথি যাচাই করা হলে আজ এত সংখ্যক ক্রিকেটারকে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হত না।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গত কয়েক বছরে স্থানীয় ক্রিকেটে ভিনরাজ্যের বহু ক্রিকেটার বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। যদি নতুন নিয়মের কারণে তাঁদের মধ্যে অনেকেই অযোগ্য ঘোষিত হন, তাহলে অতীতের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। ক্লাবগুলিও এখন অপেক্ষা করছে চূড়ান্ত তালিকার জন্য, কারণ সেই তালিকার উপরই নির্ভর করবে দল গঠনের পরিকল্পনা।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *