CJP-র দেখানো পথে ‘E20 জনতা পার্টি’? পাম্পে ১০০% খাঁটি পেট্রল বিক্রির দাবি
NEET-র প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পরে রাজধানী দিল্লি সরগরম জ্বালানি নিয়ে। কাকরোচ জনতা পার্টির (CJP) তৈরি করা পথ অনুসরণ করে এ বার ময়দানে নেমেছে ‘E20 জনতা পার্টি’। সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হওয়া নতুন এই নাগরিক মঞ্চের দাবি—সাধারণ মানুষকে ১০০% খাঁটি পেট্রল কেনার সুযোগ দিতে হবে। ইথানল মেশানো জ্বালানির ব্যবহার চলবে না। কারণ ইথানল মেশানো E20 গাড়ির ক্ষতি করছে। এমনকী গাড়ির মাইলেজ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক মিম পোস্ট এবং ব্যঙ্গ করে কেন্দ্রীয় সরকারের পেট্রল ‘নীতি’-র বিরুদ্ধে আন্দোলনে হুঁশিয়ারি দিয়েছে E20 জনতা পার্টি। ইতিমধ্যেই X হ্যান্ডলে E20 জনতা পার্টির ফলোয়ার সংখ্যা ১৩ হাজার এবং ইনস্টাগ্রামে ৮,৮০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে।
একনজরে
-
ইথানল মিশ্রিত E20 পেট্রলের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন নাগরিক উদ্যোগ।
-
‘E20 জনতা পার্টি’ নামে একটি সোশ্যাল মিডিয়া-ভিত্তিক নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।
-
পেট্রল পাম্পে ১০০% খাঁটি পেট্রল কেনার বিকল্প ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
-
E20 পেট্রল ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ কমছে এবং ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি।
-
কোন পাম্পে কী ধরনের জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
-
ইথানলের প্রভাব নিয়ে নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে।
‘E20 জনতা পার্টি’ কী?
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছে ‘E20 জনতা পার্টি’। এই দল নিজেদেরকে কোনও রাজনৈতিক দল বলে মানতে নারাজ। এই জনতা পার্টির দাবি হলো, সরকার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নয়, পাম্পে ১০০% খাঁটি পেট্রল রাখার বিকল্প ব্যবস্থা চালু করুক। এর ফলে ক্রেতারা নিজেরা বেছে নিতে পারবেন, তাঁরা কী জ্বালানি কিনবেন। এ ছাড়াও, কোন পাম্পে কী ধরনের জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে তা স্পষ্ট করে লিখে রাখার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গাড়ির মাইলেজ, ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব এবং খরচের উপর ইথানলের প্রভাব নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশের দাবিও তুলেছে E20 জনতা পার্টি।
MEDIA NOTE
E20 Janta Party: Our Demand Is Simple Give Citizens the Right to Buy 100% Pure Petrol
Date: 26 July 2026
E20 Janta Party is a citizen-led movement with one simple demand:
Every Indian should have the freedom to choose and purchase 100% petrol, alongside blended…
— E20 JANTA PARTY (@E20Party) July 25, 2026
CJP-র সঙ্গে মিল কোথায়?
চলতি বছরের মে মাসে দেশের বেকার যুবকদের ‘কাকরোচ’ কটাক্ষের জেরে তৈরি হয়েছিল CJP বা কাকরোচ জনতা পার্টি। NEET-র প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে বড় ভূমিকা নিয়েছিল CJP। মূলত জেন-জ়ি’দের নিয়ে তৈরি এই দলের আন্দোলনে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ঠিক একই পদ্ধতিতে সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে ইথানল নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে একজোট করতে চাইছে E20 জনতা পার্টি। CJP-র মতো বড় সংগঠন না হলেও, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এই দল। ইতিমধ্যেই এই দল CJP এবং তরুণ প্রজন্মের সাহায্যে দেশ জুড়ে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে।
E20 জ্বালানি নিয়ে বিতর্ক
চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে দেশ জুড়ে ইথানল মিশ্রিত E20 পেট্রল বিক্রি শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, এতে খনিজ তেলের আমদানি কমবে, পরিবেশের দূষণ রোখা যাবে এবং আখ চাষিদের আয় বাড়বে। কিন্তু গাড়িচালকদের বড় অংশের অভিযোগ, ২০% ইথানল মেশানো এই পেট্রলের ফলে গাড়ির মাইলেজ ৮ থেকে ১৫ শতাংশ কমে গিয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো গাড়িগুলির ইঞ্জিন দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়েই চলেছে।
FAQ
১. ‘E20 জনতা পার্টি’ কী?
‘E20 জনতা পার্টি’ একটি সোশ্যাল মিডিয়া-ভিত্তিক নাগরিক উদ্যোগ। তারা নিজেদের রাজনৈতিক দল বলে দাবি করে না। মূল লক্ষ্য, সাধারণ মানুষকে ১০০% খাঁটি পেট্রল কেনার বিকল্প দেওয়ার দাবি তোলা।
২. এই সংগঠনের প্রধান দাবি কী?
সংগঠনের দাবি, পেট্রল পাম্পে E20-এর পাশাপাশি ১০০% খাঁটি পেট্রলও বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ক্রেতারা নিজেরাই জ্বালানি বেছে নিতে পারেন।
৩. E20 পেট্রল নিয়ে কী অভিযোগ উঠেছে?
সংগঠনের দাবি, E20 পেট্রল ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ কমছে, পুরোনো গাড়ির ইঞ্জিনের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাড়ছে।
৪. CJP-র সঙ্গে ‘E20 জনতা পার্টি’-র মিল কোথায়?
দুই ক্ষেত্রেই সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে জনমত গড়ে তোলা এবং তরুণদের আন্দোলনে যুক্ত করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।