Asansol: বুম দেখেই সে কী দৌড়! লরি থেকে তোলা নেওয়ায় অভিযুক্ত অফিসারদের দেখতে গিয়ে কোর্ট চত্বরে ইন্সপেক্টরদের এ কী কাণ্ড | Why motor vehicle inspectors running in court area in Asansol
আসানসোল: সংবাদমাধ্যমের বুম মুখের সামনে ধরতেই, দে দৌড়! দেখে কোনও অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতার ট্র্যাক বলে মনে হবে। আদতে এই দৃশ্য দেখা গেল আসানসোল (Asansol) আদালত চত্বরে। সহকর্মীরা গ্রেফতার হয়েছেন শুনে রবিবার আদালতে পৌঁছেছিলেন বেশ কয়েকজন মোটর ভেহিকেলস ইন্সপেক্টর। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের বুম আর ক্যামেরা দেখামাত্রই কোনও বক্তব্য পেশ করা তো দূরের কথা, চোরের মতো ছুটে পালালেন তাঁরা।
বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানার রামপুর চেকপোস্টে বেআইনি তোলাবাজি এবং ঘুষ-কাণ্ডে অভিযুক্ত দুই এমভিআই অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নাজিমুল হক এবং অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায় নামে ওই দুই অফিসারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঝাড়গ্রামের একটি রিসর্ট থেকে এই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। রবিবার তাঁদের আসানসোল আদালতে তোলা হলে সাতদিনের পুলিশি হেফাজতের আর্জি জানানো হয়, তবে বিচারক তাদের দু’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে কুলটি থানার অন্তর্গত রামপুর চেকপোস্টে। অভিযোগ, এই পোস্ট দিয়ে যাতায়াতকারী লরি ও অন্যান্য দূরপাল্লার গাড়ি থেকে নিয়মিত অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণে টাকা তুলতেন ওই দুই আধিকারিক। গত ২৩ তারিখ রাতে সরাসরি ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পরিবহণ দফতর তৎক্ষণাৎ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং দুই অফিসারকেই সাসপেন্ড করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিসেস রুলস, ১৯৭১’ অনুযায়ী দুই এমভিআই-কে সাময়িক বরখাস্ত করে গোটা ঘটনার তদন্তভার অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোর হাতে তুলে দেওয়া হয়। বরখাস্ত হওয়ার পর থেকেই গ্রেফতারির আশঙ্কায় গা-ঢাকা দিয়েছিল নাজিমুল ও অনুপম, কিন্তু শেষরক্ষা আর হয়নি।