কলকাতায় বাড়ছে ভাইরাল ও অ্যালার্জিক কনজাঙ্কটিভাইটিস, লাল চোখে সতর্ক চিকিৎসকরা
কলকাতা: বর্ষার শুরু এবং আবহাওয়ার ঘন ঘন পরিবর্তনের জেরে কলকাতায় (Kolkata ) দ্রুত বাড়ছে চোখের সংক্রমণ। শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও চক্ষু চিকিৎসকদের কাছে প্রতিদিনই লাল…
কলকাতা: বর্ষার শুরু এবং আবহাওয়ার ঘন ঘন পরিবর্তনের জেরে কলকাতায় (Kolkata ) দ্রুত বাড়ছে চোখের সংক্রমণ। শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও চক্ষু চিকিৎসকদের কাছে প্রতিদিনই লাল চোখ, চুলকানি, জল পড়া এবং চোখ ফুলে যাওয়ার সমস্যায় আক্রান্ত বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য আসছেন। চিকিৎসকদের মতে, এবার একসঙ্গে ভাইরাল কনজাঙ্কটিভাইটিস এবং সিজনাল অ্যালার্জিক কনজাঙ্কটিভাইটিস-এর প্রকোপ বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, এবার সংক্রমণের সঙ্গে মাইক্রোস্পোরিডিয়াল কেরাটোকনজাঙ্কটিভাইটিস-এর মতো বিরল সংক্রমণের ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। এটি মাইক্রোস্পোরিডিয়া নামের অণুজীবের কারণে হয়, যা বর্তমানে এক ধরনের ছত্রাক (ফাঙ্গাস) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। এই সংক্রমণে চোখের কনজাঙ্কটিভা এবং কর্নিয়ায় প্রদাহ তৈরি হতে পারে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর নভেম্বর এবং ২০২৪ সালে অ্যাডেনোভাইরাসের কারণে কনজাঙ্কটিভাইটিসের বড় প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল। তবে এবার সংক্রমণের মূল কারণ হিসেবে আবহাওয়ার ওঠানামা এবং মৌসুমি পরিবর্তনকে দায়ী করছেন চিকিৎসকরা।
দিশা আই হাসপাতালের কর্নিয়া সার্ভিসেসের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আদিত্য প্রধান সংবাদমাধ্যমকে জানান, বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই কলকাতায় ভাইরাল কনজাঙ্কটিভাইটিস, সিজনাল অ্যালার্জিক কনজাঙ্কটিভাইটিস এবং কিছু ক্ষেত্রে মাইক্রোস্পোরিডিয়াল কেরাটোকনজাঙ্কটিভাইটিসের রোগী বেড়েছে। ভাইরাল কনজাঙ্কটিভাইটিস সব বয়সের মানুষের মধ্যে দ্রুত ছড়াচ্ছে।
Also Read | আরশোলাদের সমর্থনের কথা বলে বিতর্ক উস্কালেন মমতা
তিনি বলেন, মৌসুমি অ্যালার্জির কারণে ধুলো, পরাগরেণু (পোলেন) এবং পোষ্য প্রাণীর লোমের সংস্পর্শে এলেও অনেকের চোখে অ্যালার্জিক কনজাঙ্কটিভাইটিস হচ্ছে। শিশু ও তরুণদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার হার মহিলাদের তুলনায় কিছুটা বেশি, আর প্রবীণদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম।
দিশা আই হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ জন কনজাঙ্কটিভাইটিসের রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত সংক্রমণ প্রথমে একটি চোখে শুরু হয় এবং পরে অন্য চোখেও ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা অ্যালার্জি, সব ক্ষেত্রেই এই সমস্যা হতে পারে। যদিও অতীতে অ্যাডেনোভাইরাস বড় ভূমিকা নিয়েছিল, এবার এখন পর্যন্ত অন্য ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে।
Also Read | বিধানসভা থেকে তৃণমূল আমলের বিতর্কিত পুলিশ অফিসারদের সাসপেন্ড মুখ্যমন্ত্রীর
চার্নক হাসপাতালের পালমোনোলজি বিভাগের প্রধান ডা. সৌম্য সেনগুপ্ত সংবাদমাধ্যমকে বলেন, চলতি মৌসুমে ভাইরাল সংক্রমণ স্বাভাবিকের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। একই সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ এবং সোয়াইন ফ্লু-র মতো ভাইরাল সংক্রমণের সঙ্গেও অনেকের কনজাঙ্কটিভাইটিস দেখা যাচ্ছে।
বিপি পোদ্দার হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. সুহানা দত্ত সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত তিন দিনে তাঁদের চক্ষু বহির্বিভাগে ১৭ জন কনজাঙ্কটিভাইটিস রোগী এসেছেন। বেশিরভাগ রোগীর চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি, জল পড়া, আঠালো স্রাব, আলো সহ্য করতে অসুবিধা এবং চোখে বালির মতো খচখচে অনুভূতির অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দূষিত জলের সংস্পর্শ, ভিড়ের জায়গায় যাতায়াত এবং বারবার চোখে হাত দেওয়ার কারণে এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। তাই বারবার চোখে হাত না দেওয়া, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নিজের তোয়ালে ব্যবহার করা এবং ব্যক্তিগত জিনিস অন্যের সঙ্গে ভাগ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্কুল থেকেই একে অপরের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া ভার্নাল কেরাটোকনজাঙ্কটিভাইটিস নামে অ্যালার্জিজনিত চোখের সমস্যাও শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, চোখ লাল হওয়া বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধের দোকান থেকে আই ড্রপ কিনে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে ভাইরাল কনজাঙ্কটিভাইটিসের ক্ষেত্রে ভুল ওষুধ ব্যবহার করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাই চোখে কোনও অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।