সিঙ্গারন নদীর গতিপথ বদলে কয়লা তোলার চেষ্টা? জামুড়িয়ায় সরব ‘নদী বাঁচাও কমিটি’
এই সময়, আসানসোল: শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইতে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিল জামুড়িয়া ব্লকের পরাশিয়া এলাকায়। ইসিএলের কুনুস্তরিয়া এরিয়ায় একটি বেসরকারি সংস্থাকে কয়লা উত্তোলনের দায়িত্ব দেওয়ার পরে তারা সিঙ্গারন নদীর গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে এবং দেদার গাছ কাটছে— এমনই অভিযোগ তুলে সরব হলো ‘নদী বাঁচাও কমিটি’। অবিলম্বে তদন্ত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার জামুড়িয়া থানায় এবং শুক্রবার জেলাশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে কমিটি।
কমিটির আহ্বায়ক অজিত কোরা জানান, বৃহস্পতিবার খবর পেয়ে তিনি বেলবাদ থেকে পরাশিয়া এলাকায় যান এবং দেখেন বড় বড় যন্ত্র এনে নদীর গতিপথ বদলের কাজ চালানো হচ্ছে। এর পরেই তিনি জামুড়িয়া থানায় লিখিত আবেদন জানান এবং অতিরিক্ত জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করেন। অজিতের বক্তব্য, ‘নদীর গতিপথ বদলালে ব্যাপক বৃক্ষছেদন হবে এবং নদীপাড়ের জনপদ চরম ক্ষতির মুখে পড়বে।’
ইকরার বাসিন্দা বুদ্ধদেব রজক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এতদিন কারখানাগুলো নদী দখল করছিল, আর এখন ইসিএলের ছায়ায় বেসরকারি সংস্থা পুরো নদীটাকেই ঘুরিয়ে দিতে চাইছে। এতে মানুষ ও গবাদি পশুর যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা অতীতেও নদী বাঁচানোর আন্দোলন করেছি, আবারও করব।’
অজিত আরও জানান, নদী বিশেষজ্ঞদের একটি দল ৩০ জুলাই কলকাতায় তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করে পরাশিয়ায় আসবেন। ওইদিন সিঙ্গারন নদী, কুনুস্তরিয়া ও আমরাসোতা জোড় বাঁচানোর লক্ষ্যে এক গণ-কনভেনশনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
ইসিএলের কুনুস্তরিয়া এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজার অমিতকুমার সিনহা অভিযোগ প্রসঙ্গে জানান, নদীর গায়ে কয়লা খনন করা সম্ভব নয় বলেই গতিপথ পরিবর্তনের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই রাজ্যের সেচ দপ্তরের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছি। তবে এখনও নদী ঘোরানোর কাজ শুরু হয়নি। প্রয়োজন হলে আরও যে সব দপ্তরের ছাড়পত্র দরকার, তা নেওয়া হবে। এই বিষয়ে কারও সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হলে তা-ও বলা হবে।’
উল্লেখ্য, জামুড়িয়ার একাধিক বেসরকারি কারখানা ইতিমধ্যেই সিঙ্গারন নদীকে নিজেদের সীমানার ভিতর ঢুকিয়ে বা নালার মতো ছোট করে দূষিত বর্জ্য ফেলছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। এ নিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বার বার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘প্রয়োজনে কারখানার সীমানা প্রাচীর ভেঙে দিয়ে নদীকে তার স্বাভাবিক গতিপথে ফিরিয়ে আনতে হবে।’