দাবানলের গ্রাসে জঙ্গল-জনপদ, জরুরি অবস্থা স্পেনে, কেন এত ভয়ঙ্কর এই আগুন? - 24 Ghanta Bangla News
Home

দাবানলের গ্রাসে জঙ্গল-জনপদ, জরুরি অবস্থা স্পেনে, কেন এত ভয়ঙ্কর এই আগুন?

Spread the love

ইউরোপ জুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই বিধ্বংসী দাবানলের তাণ্ডব। বন-জঙ্গল-জনপদ গিলে খাচ্ছে আগুন। দাবানলে জেরে বিপর্যস্ত ফ্রান্স ও স্পেন। আগুনের ভয়াবহতায় দুই দেশ মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। কোথাও সমুদ্রপথে পালিয়ে প্রাণ বাঁচাতে হয়েছে বাসিন্দাদের, কোথাও আবার শহরবাসীদের বাঁচাতে পর্যটন কেন্দ্র খালি করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেমেছে সেনা, দমকল, বিমান বাহিনী। ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও সাহায্য চাওয়া হয়েছে। অবস্থা এতটাই সঙ্গীন যে স্পেনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

স্পেনে প্রথমবার জাতীয় জরুরি অবস্থা

স্পেনের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মাদ্রিদের আশপাশে একাধিক দাবানল একত্রিত হয়ে বিশাল অগ্নিকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। এর জেরে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় স্তরের ‘ওয়াইল্ডফায়ার এমার্জেন্সি’ ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশজুড়ে অন্তত ৬৩ হাজার থেকে ৭০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণ হাতে করে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ২,৬০০-রও বেশি জরুরি পরিষেবার কর্মী। ইতালি, গ্রিস, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস-সহ ইউরোপের একাধিক দেশ আগুন নেভানোর বিমান পাঠিয়ে স্পেনের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে।

আগুনের বড় ধাক্কা ফ্রান্সেও

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে বোর্দোর (Bordeaux) আশপাশের গিরন্দ (Gironde) এবং লঁদ (Landes) অঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে আগুন। প্রবল গরম, দীর্ঘদিনের খরা এবং দমকা হাওয়ার জেরে দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

ফরাসি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ফ্রান্সেই প্রায় ১.৯৭ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বহু এলাকায় আগেভাগেই বাড়ি খালি করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি দাবানলের ধোঁয়ার হাত থেকে বাঁচতে সরকারের তরফে লক্ষ লক্ষ ফেস মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। আগুন নেভাতে প্রায় ১,৫০০ সেনা ও দমকল কর্মী, একাধিক জলবাহী বিমান এবং সামরিক A400M বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়েছে যে বহু মানুষকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও সঙ্গে নেওয়ার সময় পাননি। শুধু প্রাণটুকু হাতে নিয়ে ছেড়েছেন বাড়ি। কিছু এলাকায় রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাসিন্দাদের নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

২.৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

শনিবারের সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, ফ্রান্স ও স্পেন মিলিয়ে আড়াই লক্ষেরও বেশি মানুষ বাড়িছাড়া। এর মধ্যে ফ্রান্সে প্রায় ১.৬৭ লক্ষ এবং স্পেনে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

পুড়ে ছাই হাজার হাজার হেক্টর বনভূমি

চলতি বছরে স্পেনে ইতিমধ্যেই ১.৩ লক্ষ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি আগুনের গ্রাসে চলে গিয়েছে। ফ্রান্সেও প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর এলাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান গত কয়েক বছরের গড়ের তুলনায় অনেক বেশি।

ইউরোপীয় কমিশনের যৌথ গবেষণা কেন্দ্র (JRC)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ইউরোপে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ গত ২০ বছরের গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

আবহাওয়াবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং প্রবল বাতাস দাবানলের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দক্ষিণ ইউরোপে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে এবং বিজ্ঞানীরা এর পিছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকেই অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে

উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার সামান্য উন্নতি হলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দমকা হাওয়া ফের বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ফ্রান্স ও স্পেন—দুই দেশের প্রশাসনই সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় না যাওয়ার এবং সরকারি নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানিয়েছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *