বালির অবৈধ কারবার নিয়ে ক্ষুব্ধ পদ্ম-কর্মীরা, অভিযোগ ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের বিরুদ্ধে - 24 Ghanta Bangla News
Home

বালির অবৈধ কারবার নিয়ে ক্ষুব্ধ পদ্ম-কর্মীরা, অভিযোগ ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের বিরুদ্ধে

Spread the love

এই সময়, বর্ধমান: সর্ষের মধ্যেই ভূত! বালির অবৈধ কারবার বন্ধ করতে প্রশাসন যখন কড়া মনোভাবের বার্তা দিচ্ছে, তখন ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের ভিতর থেকেই বালির অবৈধ কারবারকে মদত দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠল। রাজ্যের শাসকদল বিজেপিরই কিছু কর্মী গুরুতর এই অভিযোগ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বালির অবৈধ কারবারি এবং জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের মধ্যে অশুভ চক্র গড়ে উঠেছে। ওই পদ্ম–কর্মীদের আরও দাবি, এ নিয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলাশাসকের (এডিএমএলআর) সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তাঁদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

তাঁরা বুধবার জানিয়েছেন, দিন ২০ আগে গলসি–১ ব্লকের বিএলএলআরও (ব্লক ল্যান্ড অ্যান্ড ল্যান্ড রিফর্মস অফিসার) প্রণবকুমার কর্মকার বালিবোঝাই ১১টি লরি আটক করেন। তাঁরাই লরিগুলিকে রাস্তায় থামিয়ে বিএলএলআরও–কে খবর দিয়েছিলেন। ওই লরিগুলির বেশ কয়েকটিতে মেয়াদ ফুরোনো চালানে বালি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ ছাড়াও কিছু লরিতে কোনও চালানই ছিল না, আর কিছু লরিতে ছিল অন্য রুটের চালান। কিন্তু পরবর্তী সময়ে লরিগুলিকে শুধুমাত্র ই-লকিং করা ছাড়া আর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গলসি এলাকার ওই বিজেপি কর্মীরা আরও জানিয়েছেন, তাঁদের কয়েক জন এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

তাঁদেরই একজন অংশুমান সাহা। তিনি এ দিন বলেন, ‘তৃণমূল সরকারের সময়ে যে ভাবে বালি নিয়ে যাওয়া হতো, সেই একই ভাবে এখনও বালি চালান করা হচ্ছে। বিএলআরআরও ১১টি লরি আটক করলেন, ব্যাস? তার পরে কোনও ব্যবস্থা কোথায় নেওয়া হলো?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছি। তা হলে যে খাদান থেকে ওই বালি লরিতে লোড করা হয়েছিল, তার ইজারাদারের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না?’

এ দিকে সূত্রের খবর, গলসি এলাকার বিজেপি কর্মীদের চিঠি পাওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর জেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠায়। তার পরে নড়েচড়ে বসে এডিএমএলআর–এর দপ্তর, শো–কজ় করে সেই ইজারাদারকে। তার পরে? বিজেপি কর্মী অংশুমানের অভিযোগ, ‘সেই শো–কজ়ের জবাব দেওয়ার মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আপনারাও খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন।’

অংশুমান এ দিন ওই অতিরিক্ত জেলাশাসকের দিকেও আঙুল তুলেছেন। তিনি এ দিন বলেন, ‘ওঁর অফিসে গেলে ওঁকে পাওয়া যায় না। আজও আমরা ওঁর অফিসে গিয়েছি। উনি ছিলেন না। কোথায় গিয়েছেন, কেউ জানেন না। আমরা জেলাশাসক–সহ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর সর্বত্রই বিষয়টা জানাচ্ছি। আবার একটা অবৈধ চক্র গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে।’ আর এক বিজেপি কর্মী সমর হাজরাও একই অভিযোগ জানিয়ে বলেন, ‘এই গলসি–১ ব্লকের বিভিন্ন খাদানে বালির অবৈধ কারবারিদের সঙ্গে আগের মতোই একটা চক্র গড়ে উঠেছে। দু’মাস আগে সরকার বদল হলেও বন্ধ হয়নি বালির চোরাচালান। এ সব নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদের।’

বিজেপির দুর্গাপুর-বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ–সভাপতি রমন শর্মা পাশে দাঁড়িয়েছেন দলের এই কর্মীদের। তিনি এ দিন বলেন, ‘বেনিয়ম হলে ক্ষোভ থাকবে। সেটাই হয়েছে। অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়েছে।’ গলসির বাসিন্দা কুন্তুল ঘোষও অভিযোগ করেছেন, ‘সবার নাকের ডগায় দিনরাত চলছে বালিবোঝাই ওভারলোডিং লরি–ডাম্পারের যাতায়াত।’ এ বিষয়ে জানতে এডিএমএলআর–কে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *