এগ্রিস্ট্যাক, ডিজিটাল ‘বিপ্লব’ নাকি ‘শৃঙ্খল’?
এগ্রিস্ট্যাক কী?
সহজ কথায়, ‘এগ্রিস্ট্যাক’ হলো কৃষির সব তথ্য নিয়ে গড়া একটি ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার৷ ভারতীয় কৃষির আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে এই পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে, সরকার তেমনটাই বলছে। এই উদ্যোগ মূলত সরকারের ‘ইন্ডিয়া ডিজিটাল ইকোসিস্টেম অফ এগ্রিকালচার’ (আইডিইএ) প্রকল্পের একটি অংশ, যার মূল উদ্দেশ্য হলো, ডিজিটাল তথ্যকে সঠিক ভাবে কাজে লাগিয়ে চাষের খরচ কমিয়ে আনা এবং সঠিক সময়ে কৃষি পরিষেবা পৌঁছে দিয়ে কৃষকদের লাভের মুখ দেখানো। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলোকে সঙ্গে নিয়ে দেশ জুড়ে ‘এগ্রিস্ট্যাক’ পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ পুরোদমে শুরু করে।
এই নতুন ব্যবস্থায় প্রত্যেক কৃষককে একটি আলাদা ডিজিটাল পরিচয় বা ‘ফার্মার আইডি’ দেওয়া হবে, যাকে এক অর্থে ‘কৃষি আধার’ বলা চলে। উক্ত আইডি-তে যুক্ত থাকবে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তৈরি করা চাষির নিজের জমির ম্যাপ এবং কোন জমিতে কী ফসল চাষ হচ্ছে তার যাবতীয় তথ্য। এ ছাড়াও যুক্ত থাকবে চাষির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় বিবরণ, ফলে কৃষকের নিজস্ব আইডি নম্বরকে কাজে লাগিয়ে পিএম-কিষান সহ সমস্ত সরকারি অনুদানের টাকা সরাসরি তার অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, যা দুর্নীতি ও ফড়েদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করবে। অন্য দিকে, কাগজপত্রের ঝামেলা না থাকায় ব্যাঙ্ক থেকে কৃষি ঋণ এবং ফসল বিমার টাকা অনেক দ্রুত কৃষকের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। সর্বোপরি, স্যাটেলাইট ও তাৎক্ষণিক তথ্যের কল্যাণে কৃষকরা মাটির স্বাস্থ্য, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং ফসলের সঠিক বাজার দরের মতো জরুরি তথ্য সরাসরি নিজেদের মোবাইলেই পেয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অগস্ট মাস পর্যন্ত দেশে ৬.৪ কোটির বেশি কৃষকের ‘কিষান আইডি’ তৈরি হয়ে গেছে এবং প্রায় ২৫ কোটিরও বেশি জমির খতিয়ান ডিজিটাল ম্যাপের আওতায় এসেছে। ইতিমধ্যেই কয়েক কোটি কৃষককে পিএম-কিষান ও শস্য বিমার সুবিধা ফার্মার আইডি-র মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এগ্রিস্ট্যাক-এর বেশ কিছু সুফল এখনই মিলতে শুরু করেছে এবং সাফল্যের এক লম্বা খতিয়ান সামনে এনেছে।