রোজ ১০-১১ ঘণ্টা করে অফিস করছেন, কোন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে? সতর্ক করলেন চিকিৎসক
অফিসিয়ালি ৮ ঘণ্টার শিফট। কিন্তু কাজ শেষ করতে করতে ৯-১০ ঘণ্টা হয়ে যায়। আবার বাড়ি ফিরেও ল্যাপটপ নিয়ে বসে যান। দেখতে গেলে দিনের প্রায় ১২ ঘণ্টা অফিসের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। এই রুটিনে শরীরের উপর কী প্রভাব পড়ছে জানেন?
কী বলছেন চিকিৎসক?
সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডেলে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ সুধীর কুমার কতক্ষণ কাজ করা উচিত এবং অতিরিক্ত কাজের চাপে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে, তা নিয়ে একটি তথ্য পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘গবেষণা অনুযায়ী, সপ্তাহে ৩৫-৪০ ঘণ্টা কাজ করাই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো। এর চেয়ে বেশি কাজ করলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষত করে সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করার অভ্যাস থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।’
কী বলছে গবেষণা?
ডাঃ কুমারের মতে, যাঁরা সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করেন, তাঁদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ৩৫% এবং আইসকেমিক হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি ১৭% বেশি। চিকিৎসকের সংযোজন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার জেরে ২০১৬ সালে বিশ্বজুড়ে স্ট্রোক ও হৃদরোগে প্রায় ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।’
অতিরিক্ত কাজ করার জেরে কী হয়?
দীর্ঘক্ষণ কাজ করার অভ্যাস সরাসরি হার্টের ক্ষতি করে না। অত্যধিক পরিশ্রম (কায়িক ও মানসিক) করার জেরে শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়তে থাকে। এগুলো রক্তচাপ বাড়ায়, রক্তনালির প্রদাহ তৈরি করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। এই প্রতিটা বিষয় হার্টের সমস্যা ডেকে আনে।
সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করলে কী হয়?
-
পর্যাপ্ত ঘুম হয় না
-
শরীরজুড়ে চরম ক্লান্তি থাজে
-
বার্নআউট, অ্যাংজ়াইটি ও ডিপ্রেশন বাড়তে থাকে
-
উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেয়
-
কর্মক্ষমতা ও মনসংযোগ কমে যায়
-
কাজ করার ইচ্ছে কমে যায়
-
ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার খাওয়ারও সময় হয় না
-
পরিবারের জন্যও সময় কমে যাওয়া
এই সমস্যার সমাধান কী?
-
সপ্তাহে ৩৫–৪০ ঘণ্টা কাজ করার চেষ্টা করুন
-
সপ্তাহে ৫০ বা ৫৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করার অভ্যাস ত্যাগ করুন
-
কাজের ফাঁকে হাঁটাচলা করুন, ব্রেক নিন
-
রাতে ৭-৯ ঘণ্টার গভীর ঘুম দরকার
-
নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং হেলদি লাইফস্টাইল মেনে চলুন
-
সপ্তাহে অন্তত একদিন কাজ থেকে দূরে থাকুন
FAQ
১. সপ্তাহে কত ঘণ্টা কাজ করা সবচেয়ে ভালো?
উত্তর: গবেষণা অনুযায়ী, সপ্তাহে ৩৫–৪০ ঘণ্টা কাজ আদর্শ।
২. ৫৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে কী ঝুঁকি বাড়ে?
উত্তর: স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
৩. অতিরিক্ত কাজ শরীরের কী ক্ষতি করে?
উত্তর: স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে রক্তচাপ, প্রদাহ ও রক্তে শর্করা বাড়ায়।
৪. বেশি কাজ করলে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে?
উত্তর: ঘুমের অভাব, ক্লান্তি, বার্নআউট, উদ্বেগ, উচ্চ রক্তচাপ ও মনোযোগ কমে যেতে পারে।
৫. এই ঝুঁকি কমানোর উপায় কী?
উত্তর: কাজের সময় সীমিত রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম, বিরতি নেওয়া ও ৭–৯ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা।
এক নজরে
-
সপ্তাহে ৩৫–৪০ ঘণ্টা কাজ স্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ।
-
৫৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
-
অতিরিক্ত কাজ স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে শরীরের ক্ষতি করে।
-
দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে ঘুম, মানসিক স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতা কমে।
-
পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ব্যায়াম ও বিরতি নেওয়া জরুরি।