নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে ফিরে এল এক নতুন মহাভারত - 24 Ghanta Bangla News
Home

নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে ফিরে এল এক নতুন মহাভারত

Spread the love

ভবানীপুর শিশিক্ষুর নতুন প্রযোজনা ‘অশ্রুত তর্পণ’। যা মহাভারতের একটি বিনির্মাণ। এই নাটকটি এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। তার মধ্যে অবশ্যই প্রাধান্য পেয়েছে মহাভারতের কিছু চরিত্র। যেমন দেখা যায়, সাম্প্রতিকের ঘটনায় বা অনতি-অতীতে, সেই ক্ষমতার লোভ অতি দূর অতীতের একটি যুগকে যেন ঠেলে দিয়েছিল ধ্বংসের মুখে। ঠিক এক দেশ-ক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে।

মহাভারতে আমরা যেমন দেখতে পেয়েছি, এই নাটকের ঘটনাক্রম তা থেকেই অনেকটাই সরে এসেছে বিভিন্ন মুহূর্তে ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে। কিন্তু তা সত্ত্বেও নাটকের নির্মাণ অথবা বিনির্মাণ আমাদের মনোযোগকে বিন্দুমাত্র ব্যাঘাত ঘটায়নি। ইতিহাসের হাত ধরেই, বহির্বিশ্বেও চলমান আছে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। রাজ অন্তঃপুরেও চলতে থাকে সেই স্বার্থ, আর ক্ষমতার ক্রূর অভিযান। এই দ্বন্দ্বে যেমন নারীরা নিয়ন্তা, তেমনই তাদের উপরেই আঘাত আসে সবচেয়ে বেশি। এই নাট্য নির্মাণে নতুন করে সহায়তা নেওয়া হয়েছে কোরিওগ্রাফির। নাটক শুরু হয়, গান্ধারী আর কুন্তির দ্বন্দ্বে। যার নিয়ন্ত্রণ ছিলেন সত্যবতী। তিনি রাজ্য রক্ষা ও বংশরক্ষার স্বার্থে চতুর কৌশলে দুই পক্ষ রক্ষা করছিলেন। গান্ধারী শতপুত্রের জননী হয়েও ধৃতরাষ্ট্রের অন্ধত্বের কারণে রাণী হতে পারলেন না। রাজমাতাও নয়। অক্ষম পাণ্ডুর পত্নী কুন্তিকেও বারে-বারে উৎপাদন করতে হয় ক্ষেত্রজ সন্তান।

পরবর্তী প্রজন্মে দ্রৌপদীর হাহাকার ভরে তোলে সেই অন্তঃপুর। বাধ্য করা হয় তাকে পঞ্চবতী বরণ করতে। তার পরেও তাঁর প্রিয়তম অর্জুন একের পর এক বিবাহ করে চলে। কৌরবদের পাশাখেলার সভায় দ্রৌপদীর উপরেই নেমে আসে যৌন-লাঞ্ছনা। অথচ দুর্যোধন-পত্নী ভানুমতীর প্রতিবাদ থেকে যায় অস্ফুট। কাহিনির টানে আসে শান্তনু-পত্নী গঙ্গা। আসে ভীমের স্ত্রী হিড়িম্বা এবং তাঁর পুত্র ঘটোৎকচ। যুদ্ধ যখন অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়ায়, কেউই আর প্রতিরোধ করতে পারে না। এমনকী ভীষ্ম-ও নয়। অথচ যুদ্ধ যথারীতি হয়। পরিণতিও হয় মর্মান্তিক।

নাটকের নির্দেশক হলেন দেবাশিস মজুমদার। নিখুঁত অভিনয় করেছেন গান্ধারী চরিত্রে বিজয়লক্ষ্মী বর্মণ। অন্যান্যরা হলেন মণিকা চট্টোপাধ্যায়, পার্থ মুখোপাধ্যায়, বিদিশা ভৌমিক, তৃণা ভট্টাচার্য, সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত, ছন্দা দাশগুপ্ত, শুভমিতা ভট্টাচার্য, শুভ্রা মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। আবহে উপালি চট্টোপাধ্যায়। নাটকটি মঞ্চস্থ হবে রবিবার, ২৬ জুলাই, উত্তমমঞ্চে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *