Japan Human Refrigerator: দারুণ আবিষ্কার জাপানের! এবার থেকে রাস্তায় রাস্তায় ফ্রিজ, কেন জানেন? | Japan Introduces “Human Refrigerator” Cooling Booth to Combat Intense Heat
জাপানের (Japan) কোনও ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে হেঁটে যেতে যেতে যদি হঠাৎ চোখে পড়ে, একটা কোল্ড স্টোরেজের মতো বাক্সের ভেতরে একে একে মানুষ ঢুকছেন আর মিনিট পাঁচেক পর একেবারে ফুরফুরে হয়ে হাসিমুখে বেরিয়ে আসছেন, তবে আঁতকে উঠবেন না যেন! প্রথমটায় দেখে কোনও সাইন্স-ফিকশন সিনেমার রহস্যময় ল্যাবরেটরি মনে হলেও, দৃশ্যটা কিন্তু একবারে সত্যি। আইসক্রিম বা কোল্ড ড্রিংকস ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করার কথা তো সবাই জানেন, কিন্তু জ্বলন্ত রোদের হাত থেকে বাঁচতে মানুষকেই ফ্রিজে ঢুকিয়ে চাঙ্গা করার এমন আজব কায়দা আগে কখনও শুনেছেন?
বিশ্বজুড়ে যখন একের পর এক দাবদাহের রেকর্ড ভাঙছে, তখন চরম উত্তাপের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণাই করে বসেছে উদীয়মান সূর্যের দেশ। সাধারণ এসির হাওয়ায় যখন আর স্বস্তি মিলছে না, ঠিক তখনই জাপানের প্রখ্যাত রেফ্রিজারেশন সংস্থা ‘এসডিআরএস’ (SDRS) সামনে এনেছে তাদের বিশেষ চমক, ‘দো হিমন বক্স’ (Do Hiemon Box)। লোকমুখে যার নাম ছড়িয়ে পড়েছে ‘হিউম্যান রেফ্রিজারেটর’ (Human Refrigerator) হিসেবে।
রহস্যটা লুকিয়ে রয়েছে এর ভেতরের কারসাজিতে। বুথের ভেতরের তাপমাত্রা থার্মোমিটারে সবসময় ঝুলতে থাকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ভেতরের একটি আরামদায়ক চেয়ারে গিয়ে বসামাত্রই শুরু হয় আসল খেলা। শরীরের যেসব অংশ দ্রুত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যেমন মাথা, ঘাড়, কাঁধ আর পিঠ, ঠিক সেদিক লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কনকনে ঠান্ডা হাওয়া। গবেষকদের মতে, প্রখর রোদে পুড়ে আসার পর মাত্র ৫ মিনিট এই হাওয়ায় বসলেই দেহের ভেতরের তাপ এক ধাক্কায় নেমে আসে স্বাভাবিক মাত্রায়।
কারখানার শ্রমিক, নির্মাণকর্মী কিংবা সারাদিন রোদে ঘুরে কাজ করা মানুষের হিটস্ট্রোক এবং সানস্ট্রোকের মতো মারাত্মক শারীরিক ঝুঁকি থেকে বাঁচাতেই এই বুথের জন্ম। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১০ মিনিট ভেতরে কাটালে হিট এক্সহসশনের ঝুঁকি এক লহমায় উধাও হয়ে যায়। মজার বিষয় হল, সাধারণ স্পট এসির তুলনায় এটি প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ টানে এবং সুরক্ষার খাতিরে ২০ মিনিট পর আপনা থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই জাপানের গুন্মা প্রিফেকচারের মায়েবাশি সিটি হলসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে বসেছে এই শীতল-বাক্স। আর ব্যক্তিগত কাজে কেনার ইচ্ছা থাকলে পকেট থেকে খসবে কর ছাড়া প্রায় ১৫ লক্ষ জাপানি ইয়েন, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৯ লক্ষ টাকার কাছাকাছি!