হাসপাতালে পরিণত টিম ইন্ডিয়া! বড় তদন্তে নামছে BCCI - 24 Ghanta Bangla News
Home

হাসপাতালে পরিণত টিম ইন্ডিয়া! বড় তদন্তে নামছে BCCI

Spread the love

চোট যেন এখন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ। একের পর এক ক্রিকেটার ছিটকে যাওয়ায় টিম ইন্ডিয়ার পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই (BCCI)…

চোট যেন এখন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ। একের পর এক ক্রিকেটার ছিটকে যাওয়ায় টিম ইন্ডিয়ার পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই (BCCI) সেন্টার অফ এক্সেলেন্স কার্যত পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। জাতীয় দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার সেখানে চিকিৎসা, ফিটনেস পরীক্ষা এবং রিহ্যাবের মধ্যে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, এত চোটের আসল কারণ কী? শুধুই দুর্ভাগ্য, নাকি ফিটনেস ব্যবস্থাপনাতেই রয়েছে বড়সড় ত্রুটি?

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ প্রায় বারোজন ভারতীয় ক্রিকেটার বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে থাকবেন। ইতিমধ্যেই সেখানে রয়েছেন হার্দিক পাণ্ডিয়া, নীতীশকুমার রেড্ডি, বরুণ চক্রবর্তী, হর্ষিত রানা এবং আকাশ দীপ। খুব শিগগিরই তাঁদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন ওয়াশিংটন সুন্দর-সহ আরও কয়েকজন ক্রিকেটার। আগামী মাসে শ্রীলঙ্কা সফর থাকায় কয়েকজনের ফিটনেস মূল্যায়নও করা হবে। সেই তালিকায় মহম্মদ সিরাজ এবং রবীন্দ্র জাদেজার নামও উঠে আসছে।

শুধু জাতীয় দলের তারকারাই নন, ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার আগে সরফরাজ খান, মুশির খান এবং অভিষেক পোড়েলের মতো ক্রিকেটারদেরও এই কেন্দ্রেই ফিটনেস পরীক্ষা দিতে হয়েছে। ফলে স্পষ্ট, ভারতীয় ক্রিকেটে চোটের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে।

সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়, বিসিসিআই নিজেই নাকি সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের কাজকর্মে সন্তুষ্ট নয়। বোর্ডের এক সূত্রের মতে, বারবার হ্যামস্ট্রিং এবং পেশির চোট পাওয়ার ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অনেক ক্রিকেটার পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরে আসছেন। এর পিছনে টিম ম্যানেজমেন্ট, মেডিক্যাল টিম এবং ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

অভিযোগ আরও গুরুতর। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের পর থেকে সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) আর হালনাগাদ করা হয়নি। আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে পুরনো নিয়ম মেনে কাজ চললে চোটের ঝুঁকি বাড়তেই পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

কয়েকজন ক্রিকেটারের উদাহরণও সামনে এসেছে। নীতীশকুমার রেড্ডি নাকি আরও দ্রুত গতিতে বল করার চেষ্টা করতে গিয়ে হাঁটুতে চোট পান। পরে তাঁর ওজন বেড়ে গেলেও তাঁকে দ্রুত মাঠে ফেরানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে হর্ষিত রানার ক্ষেত্রেও। ওয়াশিংটন সুন্দরকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দ্রুত দলে ফেরানো হয়েছিল বলেও আলোচনা চলছে। আবার ইংল্যান্ড সফরে চোট পাওয়া আকাশ দীপের পুনর্বাসন নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বিসিসিআই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বোর্ডের লক্ষ্য, কোথায় সমস্যা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এই ধরনের চোট কমানো যায়, তার স্থায়ী সমাধান বের করা। কারণ সামনে রয়েছে ওয়ানডে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট। তার আগে দলের মূল ক্রিকেটারদের বারবার চোটে হারানো ভারতীয় দলের প্রস্তুতিতে বড় ধাক্কা হতে পারে।

সম্প্রতি ভারতের টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমান গিলও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, যদি প্রতি সিরিজে বা প্রায় প্রতিটি ম্যাচের আগে চোটের কারণে দল বদলাতে হয়, তাহলে বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতার জন্য স্থায়ী পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়বে। একটি সফল দল গড়ে তুলতে নিয়মিত একই ক্রিকেটারদের একসঙ্গে খেলানো জরুরি, আর সেটাই এখন সম্ভব হচ্ছে না।

ভারতীয় ক্রিকেটে প্রতিভার অভাব নেই। কিন্তু সেই প্রতিভাকে দীর্ঘদিন সুস্থ রেখে মাঠে নামানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শুধু চোট সারানো নয়, চোট প্রতিরোধের পরিকল্পনাতেও জোর দিতে হবে। ফিটনেস, ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট, চিকিৎসা এবং টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় গড়ে তুলতে পারলেই ভবিষ্যতে এই সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বিসিসিআইয়ের সামনে সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *